বন্দে ভারত ছুটলেও মিলছে না ন্যূনতম পরিষেবা! রেলের ৫১২টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫৮টিই ফেল, তালিকায় কোন কোন নাম?

কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা সিএজি (CAG)-র সাম্প্রতিক একটি বিস্ফোরক রিপোর্টে ভারতীয় রেলের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিকাঠামো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশের রেল নেটওয়ার্কে যখন নিত্যনতুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন এবং অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো আধুনিক ট্রেনের বহর বাড়ছে, ঠিক তখনই সাধারণ যাত্রীদের প্রাপ্ত মৌলিক সুযোগ-সুবিধার প্রকৃত চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক বলে দাবি করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। সিএজি-র এই রিপোর্টে দেশের ৫১২টি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়েকে নমুনা হিসেবে পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮৯ শতাংশ স্টেশনই যাত্রী পরিষেবার বিভিন্ন মানদণ্ডে ডাহা ফেল করেছে।
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য যাচাই করার জন্য ভিড়, যাত্রী সংখ্যা এবং বাণিজ্যিক আয়ের ভিত্তিতে স্টেশনগুলিকে মোট ছয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছিল। এই মূল্যায়নে দেশের মোট ৫১২টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫৮টি স্টেশনই পাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে ১৮৭টি আধুনিক ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ও রয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ, নৈহাটি, বর্ধমান, ব্যান্ডেল, আসানসোল এবং কলকাতা টার্মিনালের মতো ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলি এই পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, সার্বিক মানদণ্ডে আশানুরূপ ফল করতে পারেনি।
সিএজি-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, যাত্রীদের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদাগুলির ক্ষেত্রেও চরম গাফিলতি দেখা গেছে। পর্যাপ্ত পাখার সংখ্যার বিচারে ৪২ শতাংশ স্টেশন ফেল করেছে। অন্যদিকে, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থায় ২৭ শতাংশ, শৌচাগার বা টয়লেট পরিষেবায় ২২ শতাংশ, বসার ব্যবস্থায় ১৫ শতাংশ এবং প্ল্যাটফর্ম শেল্টারে ১৩ শতাংশ স্টেশন সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ট্রেন আসার সঠিক সময়, প্ল্যাটফর্ম নম্বর কিংবা গন্তব্যের ঘোষণা সংক্রান্ত পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমেও বহু স্টেশনে বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছে।
সার্বিকভাবে দেশের ৫১২টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৫৪টি স্টেশন এই কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দুটি স্টেশন—কাঁথি এবং সোনামুখী স্টেশন এই সম্মানজনক তালিকায় নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। দেশের বাকি প্রান্তের মতো বাংলার অন্যান্য মেগাসিটি ও ব্যস্ত জংশনগুলির বেহাল পারফরম্যান্স সিএজি-র এই রিপোর্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রেলের মতো বিশাল গণপরিবহণ ব্যবস্থায় টিকিট কেটে যাতায়াত করা কোটি কোটি সাধারণ মানুষের ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পরিকাঠামোগগত উন্নয়ন এবং কঠোর নজরদারির সুপারিশ করেছে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।