বিচারাধীন বন্দিদের ভোটাধিকার আছে পাকিস্তানে, তাহলে ভারতে কেন নয়? সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেবে নির্বাচন কমিশনকে?

বিচারাধীন বন্দিদের ভোটাধিকার চেয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকার এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নোটিশ জারি করেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের একটি বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্র এবং ইসিআই-এর কাছে জবাব চেয়েছে।
আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মাধ্যমে আবেদনকারী সুনিতা শর্মা এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন। প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “এই মামলাটি প্রায় ৫ লক্ষ বিচারাধীন বন্দির ভোটাধিকার সংক্রান্ত।”
কেন ভোটাধিকার চাইছে বন্দিরা?
আবেদনের মূল দাবি হলো, দুর্নীতির অভিযোগ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বন্দিদের বাদ দিয়ে, অন্যান্য বিচারাধীন বন্দিদের ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক।
জেলখানায় পোলিং স্টেশন: স্থানীয় বন্দিদের জন্য জেলে পোলিং স্টেশন স্থাপন করা হোক।
পোস্টাল ব্যালট: নিজেদের নির্বাচনী এলাকা বা রাজ্যের বাইরে থাকা বন্দিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করার নির্দেশিকা জারি করা হোক।
আইনের যে ধারা নিয়ে বিতর্ক
জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ৬২(৫) অনুযায়ী, জেলে বন্দি ব্যক্তিরা দোষী সাব্যস্ত হোক বা বিচারাধীন— তাদের ভোট দেওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আবেদনকারীর যুক্তি, এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা ‘নির্দোষ প্রমাণের বিশ্বজনীন স্বীকৃত নীতি’ লঙ্ঘন করে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত ভারতে মোট বন্দিদের ৭৩.৫ শতাংশই (প্রায় ৩,৮৯,৯১০ জন) বিচারাধীন। তাঁদের অনেকেই পরে খালাস পেয়ে গেলেও, দশকের পর দশক ধরে ভোট দেওয়ার মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
আন্তর্জাতিক নিয়মের উদাহরণ
আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, সমস্ত বন্দির ওপর নির্বিচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অপরাধে চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা সাজার মেয়াদের ভিত্তিতে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার শর্ত আরোপ করা উচিত।
তাঁরা আন্তর্জাতিক উদাহরণের উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও বিচারাধীন এবং প্রাক-বিচার বন্দিদের ভোটাধিকার রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ভারতের বর্তমান পদ্ধতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে ভিন্ন।
সুপ্রিম কোর্ট এখন কেন্দ্র এবং ইসিআই-এর জবাবের পর এই জনস্বার্থ মামলায় কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি।