বিচারপতির এক চিঠিতেই ওলটপালট! রাজ্যের সমস্ত কোর্টে কি এবার চালু হচ্ছে নজিরবিহীন কড়াকড়ি?

কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রতিটি জেলা আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক যুগান্তকারী ও কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনা ও গোলমালের জেরে আদালতের অন্দরে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার লক্ষ্যে তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন। প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগের পরেই আইনি মহল তথা সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব অনুযায়ী, এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত আদালত চত্বরে সিগারেট, বিড়ি, পান এবং গুটখা জাতীয় সমস্ত ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। সরকারি বা সংবেদনশীল স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধের নিয়ম থাকলেও আদালত চত্বরে তার কঠোর প্রয়োগ নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন উঠত। এবার সেই নিয়মকে আরও বেশি ফলপ্রসূ করতে তৎপর হয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তবে এই নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে আদালতের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে ‘স্মোকিং জোন’ বা ধূমপান করার পৃথক জায়গা তৈরি করার প্রস্তাবও দিয়েছেন আইনজীবীদের একটি অংশ।

তামাক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আদালতের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সুরক্ষার দিকটিতেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী কিংবা আদালতের কর্মী—যাঁরাই প্রবেশ করবেন, তাঁদের প্রত্যেককে মূল গেটে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করার পর তবেই আদালত চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এই সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা এক তরফাভাবে জারি না করে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে বার কাউন্সিল এবং রাজ্যের প্রতিটি বার অ্যাসোসিয়েশনকে নিজেদের মধ্যে জরুরি বৈঠক করে এই বিষয়ে পারস্পরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। ওই সংগঠনগুলি যৌথভাবে বা পৃথকভাবে তাদের মতামত লিখিত আকারে প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দেওয়ার পরই চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হবে কি না, সেই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেকিং এবং তামাক নিষিদ্ধকরণের এই বড়সড় সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণরূপে আইনি সংগঠনগুলির রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে। ফলস্বরূপ, আদালতের অন্দরে শৃঙ্খলা ফেরানোর এই অভিনব ও সময়োপযোগী উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কোন রূপ নেয় এবং বার অ্যাসোসিয়েশনগুলি এতে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজ্য তথা আইনি দুনিয়া।