ছাত্র মৃত্যুর উত্তাল আন্দোলন থেকে দিল্লির রাজপথ! ককরোচ নেতার পুরনো কীর্তি ফাঁস করলেন প্রাক্তন অধিকর্তা

আইআইটি কানপুরের ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির রাজপথ—‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নেতা আশুতোষ রাঙ্কার আন্দোলন গড়ে তোলার কৌশল যে নেহাতই নতুন নয়, তা পরিষ্কার হয়ে গেল ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই এক প্রাক্তন অধিকর্তার বিস্ফোরক বয়ানে। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআইটি কানপুরের প্রাক্তন ছাত্রনেতা আশুতোষ রাঙ্কার পুরনো আন্দোলন ও প্রতিবাদের দিনগুলির কথা সবিস্তারে স্মরণ করেছেন প্রাক্তন ডিরেক্টর অধ্যাপক ইন্দ্রনীল মান্না। তাঁর সাফ কথা, “পরপর তিন দিন তিন রাত আমাকে চরম চাপের মুখে ফেলেছিল ও!”
ঘটনাটি ২০১৬-১৭ সালের। আইআইটির এক ছাত্র হস্টেলে পিঠের ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে পেইনকিলার দিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মাঝরাতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালেই যুবকের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই তৎকালীন স্টুডেন্টস জিমখানার সভাপতি আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে প্রায় ২ হাজার পড়ুয়া ডিরেক্টরের অফিসের সামনে আমরণ বিক্ষোভ শুরু করেন। তৎকালীন ডিরেক্টর অধ্যাপক মান্না সে সময় দিল্লিতে থাকলেও খবর পেয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে দেখেন, দিন-রাত এক করে আশুতোষ ও তাঁর দলবল পুরো প্রশাসনকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে অনড় ছিল পড়ুয়ারা।
তবে চাপের মুখেও ডিরেক্টর তড়িঘড়ি কোনো অন্যায় পদক্ষেপ না করে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের (MHRD) নির্দেশে এইমস-এর (AIIMS) বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করান। পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণিত হয় যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা যথাসময়ে সঠিক ইসিজি করেছিলেন এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না। সত্যি সামনে আসার পর মাত্র ১০ দিনের মাথায় আশুতোষ রাঙ্কা ও তাঁর দল ডিরেক্টরের ঘরে এসে নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। সাম্প্রতিক আইআইটি বম্বে বা দিল্লির নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে অধ্যাপক মান্না মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার, তবে তদন্তের আগে অন্যায্য চাপের মুখে মাথানত করা অনুচিত।
উল্লেখ্য, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইআইটি কানপুরে মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থা ম্যাকিনসে-তে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন আশুতোষ। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স (LSE) থেকে স্নাতকোত্তর এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থায় (Gavi) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দিল্লি বিধানসভাতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে ছাত্রাবস্থায় জিমখানা সভাপতি হিসেবে প্রশাসনকে কোণঠাসা করার সেই লড়াকু অভিজ্ঞতাই আজ তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।