বিচারকরা ঈশ্বর নন, ভুল তাঁদেরও হতে পারে! বিদায়বেলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির চরম সত্যি কথা

বিচারপতিরা কোনো দেবতা নন এবং তাঁদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই নিখুঁত বা ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে হবে—এমন ধারণা ভুল। সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণে এই মন্তব্য করলেন বিদায়ী বিচারপতি সঞ্জয় করোল। তাঁর প্রায় চার দশকের দীর্ঘ আইনি পেশাজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি জানান, বিচারকের আসন কেবল আইন প্রয়োগের জায়গা নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন গভীর সংবেদনশীলতা ও মানবতাবোধ।

শনিবার সুপ্রিম কোর্টে নিজের বিদায়ী ভাষণে বিচারপতি করোল স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিচারকদের কাছ থেকে সবসময় নিখুঁত রায় আশা করা যায় না। কারণ তাঁরা ঈশ্বর নন। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার পরিচালনার সময় শুধু আইনি নথির পাতায় আটকে থাকা বাদীকে দেখলে চলবে না, বরং সেই মানুষটির পেছনের লড়াই এবং তাঁর প্রত্যাশাকেও অনুধাবন করতে হবে। বিচারপতিরর সাফ কথা, আদালতের সামনে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের পরিস্থিতি ও মনের কথা বুঝতে পারাটাই প্রকৃত ন্যায়বিচারের অঙ্গ।

আইনজীবীর রোব থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির আসন—দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আদালতকক্ষ তাঁর কাছে কেবল কর্মক্ষেত্র ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি। আদালতের নীরবতা অনেক সময় বহু না-বলা কথা প্রকাশ করে দেয়, যা একজন বিচারককে নিখুঁতভাবে বুঝতে হয়। সাধারণ মানুষের আস্থাই সুপ্রিম কোর্টের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে মানুষগুলি নানা কারণে আদালতের আঙিনায় পৌঁছাতে পারেন না, তাঁদের কথাও সবসময় বিচারকদের মনে রাখা উচিত। বিচার ব্যবস্থার কাঠামোগত দিক এবং মানবীয় মূল্যবোধের এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা দিয়েই দেশের উচ্চ আদালতকে বিদায় জানালেন বিচারপতি সঞ্জয় করোল।