বিক্ষোভ বাদ দিয়ে পড়ায় মন দিন! নিট বিতর্কের মাঝেই সাফল্যের অমোঘ মন্ত্র দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর

দেশজুড়ে যখন প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে NEET পরীক্ষা ঘিরে চরম রাজনৈতিক বিতর্ক, বিক্ষোভ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই সময়ই এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ইতিবাচক বার্তা দিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন NEET-UG ২০২৬-এ সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মেধাবী ছাত্র পানশুল বনসাল। মূল পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর হতাশার গভীরে না ডুবে, কীভাবে সেই বাড়তি সময়কে নিজের সাফল্যের সোপান হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, সেই রহস্যই এবার প্রকাশ্যে আনলেন এই কৃতী ছাত্র।
জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নয়াদিল্লির গ্রেটার কৈলাসের কেআর মঙ্গলম ওয়ার্ল্ড স্কুলের ছাত্র পানশুল বনসাল জানান যে, প্রথম দফায় মূল পরীক্ষা বাতিল হওয়ার খবর পাওয়ার পর প্রথমে তিনিও কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সেই ধাক্কাকে দীর্ঘস্থায়ী হতে না দিয়ে মাত্র এক-দু’ঘণ্টার মধ্যে তিনি পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পানশুলের স্পষ্ট বক্তব্য, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়ে বা রাজনৈতিক তরজায় সময় নষ্ট না করে, সেই অতিরিক্ত সময়টুকু সম্পূর্ণভাবে পড়াশোনায় বিনিয়োগ করা উচিত। তাঁর মতে, প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার চেয়ে বাড়িতে বসে নিজের দুর্বলতাগুলোকে ঝালিয়ে নিয়ে আরও বেশি নম্বর তোলার চেষ্টা করা অনেক বেশি বুদ্ধিমতার কাজ।
উল্লেখ্য, স্নাতক স্তরের মেডিকেল কোর্সে ভর্তির জন্য গত ৩ মে নির্ধারিত মূল NEET-UG পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ উঠলে এবং সিবিআই তদন্তের জেরে গত ১২ মে সেই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এরপর চরম নিরাপত্তার বেড়াজালে গত ২১ জুন ফের নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং গত ১৬ জুলাই তার ফলাফল প্রকাশিত হয়। প্রথম দফার মূল পরীক্ষায় ৭০৬ নম্বর পাওয়া পানশুল রি-এক্সামে নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করে ৭১৫ নম্বর অর্জন করেন এবং ৯৯.৯৯৯৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় স্তরে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।
প্রস্তুতির এই অতিরিক্ত সময়টুকু তিনি কীভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে বলতে গিয়ে পানশুল জানান যে তিনি নিজের দৈনন্দিন পড়াশোনার রুটিনে কোনো রকম আমূল পরিবর্তন আনেননি। বরং নিজের স্বাভাবিক পড়াশোনার গতি বজায় রেখে শেষ দেড় মাস সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে গেছেন এবং বাকিটা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। নেতিবাচক চিন্তা মাথায় না এনে নিজের মূল লক্ষ্যের দিকে অবিচল থাকার এই মানসিকতাই তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে দেশজুড়ে চলা তীব্র রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও আন্দোলন প্রসঙ্গে মুখ খুলতে সম্পূর্ণ নারাজ হন এই মেধাবী ছাত্র।