ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা এখন আর নিছক কোনো রাজনৈতিক ‘গসিপ’ নয়, বরং এক বাস্তব নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের পর ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকেরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প এবার সামরিক শক্তিতে গ্রিনল্যান্ড কবজা করতে পারেন। আগামী সপ্তাহেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ডেনমার্কের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই ‘অধিগ্রহণ’ নিয়ে আলোচনায় বসছেন। হোয়াইট হাউজ স্পষ্ট জানিয়েছে, আলোচনায় কাজ না হলে ‘অন্য’ পথও খোলা থাকতে পারে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো জার্মানি ও পোল্যান্ডের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, ইউরোপ কোনোভাবেই এই জবরদখল মেনে নেবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের হাতে এখন চারটি পথ রয়েছে। প্রথমত, ন্যাটোর মাধ্যমে সমঝোতা করে আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমাতে যৌথ সামরিক তৎপরতা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, গ্রিনল্যান্ডকে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক প্যাকেজ (প্রায় ৫৩০ মিলিয়ন ইউরো) দিয়ে আমেরিকার প্রলোভন থেকে দূরে রাখা।
অন্যদিকে, বের্ন্ড লাঙ্গের মতো ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বাণিজ্যিক পাল্টা ব্যবস্থার (অ্যান্টি-কোয়ারশন ইন্সট্রুমেন্ট) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো সামরিক উপস্থিতি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেনমার্কের অনুরোধে ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে প্রতীকী সেনা মোতায়েন করলে তা ট্রাম্পের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও সুপারপাওয়ার আমেরিকার বিরুদ্ধে এই পথে প্রাণহানির ঝুঁকি প্রবল। সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন ‘ফ্ল্যাশপয়েন্ট’।