ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যের মধ্যে ভাষার সীমারেখাগুলি এক অদ্ভুত পরিচিতি তৈরি করে। জানেন কি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ঠিক শেষ সীমানায় অবস্থিত বাসস্ট্যান্ডটি কোথায়? পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার সোলপাট্টা নামক একটি বাসস্ট্যান্ডকেই বলা হয় ‘বাংলার শেষ বাসস্ট্যান্ড’।
পশ্চিমবঙ্গের এক প্রান্তে ওড়িশা, অন্যপ্রান্তে বিহার ও ঝাড়খণ্ড অবস্থিত। মেদিনীপুর শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে দাঁতন থানার সোলপাট্টা এলাকাতেই রয়েছে রাজ্যের শেষ সীমানা। এই বাসস্ট্যান্ডটির গা ঘেঁষেই শুরু হয়েছে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা। একইভাবে দাঁতন থানার সোনাকোনিয়াতেও রয়েছে আরও একটি বাসস্ট্যান্ড, যার গায়ে থেকেই শুরু হয়েছে ওড়িশা।
কেন এটি বাংলার শেষ বাসস্ট্যান্ড?
প্রশাসনিক ক্ষেত্র হিসেবে এই এলাকাটি দুই রাজ্যের মধ্যবর্তী সীমানা হিসেবে পরিচিত। সোলপাট্টা বাসস্ট্যান্ডের একপাশে পশ্চিমবঙ্গের এখতিয়ার, আর অন্য পাশেই শুরু হচ্ছে ওড়িশা রাজ্য। আর এখানেই রয়েছে সরকারিভাবে তৈরি করা বাসস্ট্যান্ড। এই ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই এটিকে বাংলার শেষ বাসস্ট্যান্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাস চলাচলের রুট ও স্থানীয়দের ভিড়:
স্থানীয়দের দাবি, এই সোলপাট্টা বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন কলকাতাগামী, মেদিনীপুর এবং কাঁথিগামী একাধিক বাস চলাচল করে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, সোলপাট্টা থেকেই সরাসরি ওড়িশা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বাস যাতায়াত করে। ফলে এই বাসস্ট্যান্ডটিকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের প্রচুর ভিড় দেখা যায়।
সোলপাট্টা বাসস্ট্যান্ডে মিশ্র সংস্কৃতি, ভাষাভাষীর মানুষ এবং মিশ্র ঐতিহ্য নিয়ে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে। এই প্রান্ত থেকেই কখনও ওড়িশায়, আবার কখনও কলকাতার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন সাধারণ মানুষ।