বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যুতে জ্বলছে রাজ্য! মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কি মিলবে ন্যায়বিচার?

রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ১২ বছরের এক নাবালিকার মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দোষীদের শাস্তির দাবিতে এবং বিচার চেয়ে স্থানীয় মানুষ রাস্তায় মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাস্তার ওপর গাছের গুড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের ওপরও আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। অশান্তি চরম আকার ধারণ করলে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করতে হয়।
এই ঘটনার পরই দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনার ওপর নজর রাখছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, বারুইপুরের এই ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন।
সায়নী ঘোষ নিজের ফেসবুক ও অন্যান্য হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, “বারুইপুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এই বিষয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি নিজে পুরো পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন। ইতিমধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।” সাংসদ আরও যোগ করেন, অপরাধীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান।
তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের এই পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন বিরোধী দলগুলি শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে, ঠিক তখন সায়নী ঘোষের এই বার্তা প্রশাসনকে কিছুটা স্বস্তি দিল। অপরাধীদের কড়া শাস্তির দাবিতে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। SIT-এর তদন্ত রিপোর্ট এবং পরিবারের দাবি অনুযায়ী ন্যায়বিচার পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। রাজ্যের এই স্পর্শকাতর ঘটনায় সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।