বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কি হৃদরোগ? বিরল স্নায়ুরোগের হদিশ পেলেন চিকিৎসকরা, সুস্থ ললিতা

দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন ৫০ বছর বয়সি ললিতা দেবী। বারংবার হৃদরোগের লক্ষণ মনে হলেও, শেষ পর্যন্ত কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসায় ধরা পড়ল এক বিরল স্নায়ুরোগ। বর্তমানে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি সুস্থ জীবনে ফিরেছেন।
ভুল ঠিকানার রোগ: হাসপাতাল সূত্রে খবর, ললিতা দেবীর প্রাথমিক উপসর্গ দেখে চিকিৎসকদেরও প্রথমে মনে হয়েছিল সমস্যাটি হৃদযন্ত্রজনিত। কিন্তু বারবার হার্টের পরীক্ষা ও অ্যাঞ্জিওগ্রাম করার পরেও রিপোর্ট স্বাভাবিক আসে। এরপরই চিকিৎসকরা নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। বিস্তারিত পরীক্ষার পর জানা যায়, ললিতা দেবী আসলে ‘ইডিওপ্যাথিক ইন্ট্রাক্র্যানিয়াল হাইপারটেনশন’ (IIH) নামক এক বিরল নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুরোগে আক্রান্ত ছিলেন।
বিরল এই রোগটি কী? চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই রোগে কোনো টিউমার, রক্তক্ষরণ বা সংক্রমণ ছাড়াই মাথার খুলির ভেতরে মস্তিষ্কের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মস্তিষ্ক থেকে রক্ত বহনকারী শিরাগুলো সরু হয়ে যাওয়ায় রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়, যার জেরেই রোগী বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সময়মতো চিকিৎসা না করলে অপটিক নার্ভের ক্ষতি হয়ে রোগী স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।
চিকিৎসকদের টিম ও সমাধান: এই বিরল রোগের মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল। নিউরোলজিস্ট কৌশিক দত্ত, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট সৌম্যকান্তি দত্ত এবং নিউরো ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিস্ট নির্মাল্য রায়ের নেতৃত্বে ললিতা দেবীর মস্তিষ্কে ‘ভেনাস সাইনাস অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং’ করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় নিউরোইন্টারভেনশন ও এন্ডোভাসকুলার সার্জন সুকল্যাণ পুরকায়স্থ এবং অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট সমর চক্রবর্তী বিশেষ সহায়তা করেন।
চিকিৎসকদের এই অসামান্য প্রচেষ্টায় ললিতা দেবী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। এই খবরটি শুধুমাত্র ললিতার জয় নয়, বরং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে সচেতন মহল। চিকিৎসকদের মতে, বারবার অকারণে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর পেছনে থাকতে পারে মস্তিষ্কের এই ধরনের জটিল রোগ।