বায়ুসেনাকে চিরতরে আলবিদা গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দন বর্তমানের! হঠাৎ কেন এই পদত্যাগ?

ভারতীয় বিমান বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালেন দেশ তথা আন্তর্জাতিক মহলের চর্চিত মুখ গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দন বর্তমান। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তিনি ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় নতুন কর্মজীবন শুরু করতে চলেছেন। যদিও ভারতীয় বিমান বাহিনী বা খোদ অভিনন্দন বর্তমানের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে এই পদত্যাগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবুও তাঁর এই আকস্মিক চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত গোটা দেশের প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান হামলার সময় পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর পাক সেনার হাতে বন্দি হয়েছিলেন অভিনন্দন বর্তমান। পরবর্তীতে তীব্র কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে পাকিস্তান সরকার পাঞ্জাবের ওয়াঘা সীমান্তে তাঁকে ভারতের হাতে সসম্মানে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। সেই সময় তাঁর এই সাহসী ভূমিকা গোটা বিশ্বজুড়ে এক ঐতিহাসিক ঘটনার রূপ নিয়েছিল। ২০১৯ সালের গোড়ায় পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত সরকার বালাকোটে বিমান হানা চালায়, যেখানে অভিনন্দনের সাহসী অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিনন্দন বর্তমান বর্তমানে গোয়াভিত্তিক একটি বেসরকারি আঞ্চলিক বিমান পরিবহন সংস্থা ‘ফ্লাই-৯১’-এ যোগ দিয়েছেন। এই সংস্থাটি মূলত ছোট আকারের বিমান পরিচালনা করে থাকে। তবে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ এবং সরকারি চাকরি ছেড়ে বেসরকারি সংস্থায় যোগদানের বিষয়টি নিয়ে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই স্তরের একজন দক্ষ ফাইটার পাইলটকে প্রস্তুত করতে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ফলে, ভারতীয় বিমান বাহিনীতে আরও উচ্চ পদে আসীন হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তাঁর এভাবে মাঝপথে চাকরি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে।

সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্বের সম্মান ‘বীর চক্রে’ ভূষিত করেছিল। তাঁর সেই সম্মানবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, একটি দুরূহ আকাশযুদ্ধে তাঁর অসাধারণ এবং অতুলনীয় ভূমিকা দেশবাসীকে গর্বিত করেছে। এমন একজন চৌকস ও অভিজ্ঞ পাইলটের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তাই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মনেও একাধিক জটিল প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।