অলিম্পিক জয়ের প্রস্তুতি! আমদাবাদকে টেক্কা দিতে তামিলনাড়ুতে মেগা ‘স্পোর্টস সিটি’ গড়ার ঘোষণা বিজয়ের!

২০৩৬ সালে ভারতে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের কেন্দ্রীয় সরকারের সুদূরপ্রসারী স্বপ্নের পথ ধরে এবার দেশের অন্দরেই শুরু হয়ে গেল মেগা লড়াইয়ের প্রস্তুতি। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার যখন আমদাবাদ শহরকে কেন্দ্র করে এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার মহাযজ্ঞ আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে, ঠিক তখনই গুজরাতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জোরালোভাবে উঠে আসছে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক শুরুর আগেই তামিলনাড়ুতে একটি অত্যাধুনিক ‘স্পোর্টস সিটি’ এবং একটি ‘মোটর স্পোর্টস সিটি’ গড়ে তোলা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
তামিলনাড়ু সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই স্পোর্টস সিটিতে অলিম্পিকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় আয়োজন করার সমস্ত আধুনিক ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি, মোটর স্পোর্টস সিটিতে ফর্মুলা ওয়ান (F1), ফর্মুলা টু (F2), ফর্মুলা থ্রি (F3) এবং ফর্মুলা ফোর (F4) রেস আয়োজনের মতো রোমাঞ্চকর ও হাই-টেক ট্র্যাক তৈরি করা হবে। যদিও এই জোড়া ক্রীড়ানগরী ঠিক কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে গড়ে তোলা হবে, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বিজয়ের টিভিকে (TVK) সরকার, তবে উপকূলবর্তী দুটি জেলাকে এর জন্য প্রাথমিক তালিকায় রাখা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আধুনিক ক্রীড়ানগরী নির্মাণে অর্থ বিনিয়োগ করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ইতিহাসের পাতার দিকে তাকালে দেখা যায়, বর্তমান তামিলনাড়ু সরকারের এই উচ্চাভিলাষী ভাবনার সঙ্গে আড়াই দশক আগের পশ্চিমবঙ্গের এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের অদ্ভুত মিল রয়েছে। তৎকালীন বাম জমানায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভার উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, ঠিক তখনই রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্দেশ্যে ঠিক এমন দুটি স্পোর্টস সিটি গড়ে তোলার মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছিলেন। সেই সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড় এবং সোনারপুর-বারুইপুর এলাকাকে এর জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছিল এবং একটি মার্কিন সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও বহুদদূর এগিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা রূপায়িত হতে পারেনি কারণ খোদ সিপিআইএম দলের অন্দরেই প্রবল বাধা এসেছিল। তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী তথা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক প্রয়াত রেজ্জাক মোল্লা মন্ত্রিসভায় থেকেও এই মেগা প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে পার্টি কর্মীদের নিয়ে প্রকাশ্য রাজপথে মিছিল করেছিলেন। ঘরের কোন্দল ও রাজনৈতিক দলীয় বাধার মুখেই বাম জমানার সেই যুগান্তকারী স্বপ্ন মাঝপথেই থমকে গিয়েছিল।
আজ আড়াই দশক পর তামিলনাড়ুর মাটিতে সেই একই ধরনের মেগা স্পোর্টস সিটি গড়ার উদ্যোগ এক নতুন রাজনৈতিক চর্চার জন্ম দিয়েছে। আমদাবাদকে পেছনে ফেলে অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে তামিলনাড়ু নিজেকে কতটা এগিয়ে রাখতে পারে এবং দক্ষিণের এই রাজ্যে বিজয়ের হাত ধরে স্বপ্নের ক্রীড়ানগরী বাস্তবে রূপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।