জোটের আর্জি খারিজ শমীক ভট্টাচার্যের! পুরভোটে একা লড়ার হুঙ্কারেই কি অস্তিত্ব সংকটে সুদীপ শিবির?

রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে এক জটিল ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের পদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার থেকে শুরু করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের শীর্ষনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, আইনি নোটিসের মুখে পড়ে এনসিপিআই সাংসদরা স্পিকারের কাছে নিজেদের জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টও এ বিষয়ে নোটিস ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছে। আইনি জটিলতার এই মেঘ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক ময়দানে নতুন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের মতো হেভিওয়েট নেতাদের জন্য।
আসন্ন পুরভোটে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতে এনসিপিআই নেতৃত্ব বারবার ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধার বা হাত মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। কিন্তু রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব প্রতিবারই এই প্রস্তাব কার্যত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার বিজেপির রাজ্য মুখ্যবক্তা ও প্রবীণ নেতা শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, আসন্ন পুরভোটে বিজেপি অন্য কারোর ওপর ভরসা না করে সম্পূর্ণ একাই লড়তে বদ্ধপরিকর। গেরুয়া শিবিরের এই অনমনীয় মনোভাবের পরেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা নানাভাবে বিজেপিকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যে, এই রাজনৈতিক জোট কতটা অপরিহার্য।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে এনসিপিআইকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাই। তাঁর কড়া মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে আইনি যুদ্ধ এবং অন্যদিকে বিজেপির প্রকাশ্য অনীহা—সবমিলিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের রাজনৈতিক কৌশল এই মুহূর্তে এক বিশাল সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে এই দরকষাকষি কোন দিকে মোড় নেয় এবং স্পিকার বা আদালতের রায়ে কার কপালে কী জোটে, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয়।