বায়ুদূষণ বিক্ষোভে মাওবাদী স্লোগান! দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে লঙ্কা গুঁড়ো স্প্রে, গ্রেফতার ১৫

দিল্লির ‘প্রাণঘাতী’ বায়ুদূষণ নিয়ে চলমান বিক্ষোভ রবিবার হিংসাত্মক রূপ নেয়। ইন্ডিয়া গেটের সামনে বিক্ষোভরত জনতা পুলিশের দিকে গোলমরিচ ও লঙ্কা গুঁড়ো স্প্রে করার ঘটনায় পুলিশ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ‘শহুরে নকশাল’ (Urban Naxals) ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা এ মাসের গোড়ার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হওয়া শীর্ষ মাওবাদী নেতা মাধবী হিদমার নামে পোস্টার নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁর নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা
রবিবার ইন্ডিয়া গেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ যখন প্রতিবাদীদের তুলে নিয়ে যেতে আসে, তখন বিক্ষোভকারীরা মহিলা ও পুরুষ পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে গোলমরিচ ও লঙ্কা গুঁড়োর স্প্রে করে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হন। এরপরই পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদীদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এই সময় বিক্ষোভকারীরা ‘মাধবী হিদমা অমর রহে’ বলে মাওবাদী স্লোগান দিতে থাকে।
হিংসাত্মক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই এক যুবককে একটি পোস্টার নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল: “বিরসা মুন্ডা থেকে মাধবী হিদমা, জঙ্গল রক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার লড়াই চলবে।” দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যারা রবিবার মাওবাদী স্লোগান দিয়েছে ও পোস্টার লিখেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কে এই মাধবী হিদমা?
মাধবী হিদমা ছিলেন পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির নেতা এবং মাওবাদীদের সেন্ট্রাল কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। অন্ধ্রপ্রদেশের জঙ্গলে গত ১৮ নভেম্বর পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
হিদমার বিরুদ্ধে প্রায় ২৬টি সশস্ত্র হামলার অভিযোগ ছিল।
তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা।
২০১০ সালের দান্তেওয়াড়া মাওবাদী হামলায় তাঁর নেতৃত্বেই ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল।
২০১৩ সালের ঝিরাম ঘাঁটির হামলায় ২৭ জনের মৃত্যুর দায় ছিল তাঁর উপর।
দিল্লির বাতাসের মান এখনও বিপজ্জনক
এই উত্তেজনার আবহেও দিল্লির বাতাসের বিষের পরিমাণ কিন্তু বিপজ্জনক স্তরেই রয়েছে। বিক্ষোভের পরদিনও দিল্লি-এনসিআরের অধিকাংশ এলাকার একিউআই (AQI) স্তর ছিল ৪০০-এর উপরে। সোমবার সকালে বহু এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যায় এবং বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে থাকে রাজধানীর আকাশ।