পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে ফের একবার বড়সড় ভাঙনের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। ভাঙড়ের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম এবং তৃণমূল থেকে আগত একাধিক নেতাকে আইএসএফ (ISF) প্রার্থী করায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সিপিএম। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সাম্প্রতিক কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাম-আইএসএফ জোট এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।
সিপিএমের মূল অভিযোগ হলো, আইএসএফ এমন অনেক নেতাকে প্রার্থী করেছে যারা দীর্ঘকাল তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে বাম কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন। বিশেষ করে ভাঙড়ে আরাবুল ইস্যু এবং দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল থেকে আসা মফিদুল ইসলামকে প্রার্থী করা নিয়ে সিপিএমের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মহম্মদ সেলিমের কথায়, “যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমাদের কর্মীরা রক্ত দিয়েছেন, তাদেরই যদি জোটের নাম করে পাশে বসাতে হয়, তবে সেই জোটের প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইএসএফ-এর এই ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়াকে সিপিএম তাদের আদর্শগত লড়াইয়ের পরিপন্থী বলে মনে করছে। দেগঙ্গার মফিদুল ইসলামের প্রার্থীপদ নিয়ে জেলা স্তরের বাম নেতারা ইতিমধ্যেই আলিমুদ্দিনে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সেলিমের হুঁশিয়ারি, যদি আইএসএফ তাদের প্রার্থী তালিকায় সংশোধন না আনে, তবে সিপিএম একলা চলার পথে হাঁটতে দ্বিধা করবে না।
অন্যদিকে, আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, জয়ী হওয়ার ক্ষমতা দেখেই প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। তবে বামেদের এই কড়া মনোভাবের পর জোটের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। যদি শেষ পর্যন্ত এই জোট ভেঙে যায়, তবে তার সরাসরি সুবিধা শাসক দল তৃণমূল পাবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে আরাবুল-মফিদুল ইস্যুতে এখন সরগরম বাংলার রাজনীতির অন্দরমহল।