২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মোড়। আরজি কর কাণ্ডের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিকে সঙ্গী করেই এবার রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চলেছেন নির্যাতিতার মা। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা প্রবল। আর এখানেই তৈরি হয়েছে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। কারণ, ওই একই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন আরজি কর আন্দোলনের পরিচিত মুখ তথা ডিওয়াইএফআই নেতা কলতান দাশগুপ্ত।
কেন তিনি হঠাৎ গেরুয়া শিবিরকে বেছে নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতিতার মা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁর মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার পেতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাজ্য সরকারকে ক্ষমতা থেকে না সরালে তাঁর মেয়ের বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। বামেদের প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিধানসভায় বামেদের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় বা তারা ‘শূন্য’ হয়ে যাওয়ায় বিরোধী শক্তি হিসেবে বিজেপিই এখন তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর কথায়, “তৃণমূলকে হঠাতে হলে এবং নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হলে শক্তিশালী বিরোধী পক্ষের সঙ্গে থাকাই দরকার।”
এদিকে, কলতান দাশগুপ্ত এই বিষয়ে যথেষ্ট সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁর সহানুভূতি রয়েছে, কিন্তু রাজনীতির ময়দানে লড়াইটা আদর্শের। কলতানের দাবি, আরজি করের আন্দোলন ছিল সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ, সেখানে কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। বামেদের ‘শূন্য’ হওয়ার তত্ত্বকে নস্যাৎ করে তিনি জানান, বামপন্থীরা রাজপথের লড়াইয়ে সবসময় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে ছিল এবং থাকবে। তবে পানিহাটির এই লড়াই এখন আর কেবল ভোট প্রাপ্তির লড়াই নয়, বরং আরজি কর আন্দোলনের দুই ভিন্ন মেরুর মুখোমুখি হওয়ার এক অগ্নিপরীক্ষা।