২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে গিয়ে কার্যত নাজেহাল দশা বামফ্রন্টের। একদিকে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর সঙ্গে ৩২টি আসনে রফা চূড়ান্ত হলেও অন্যদিকে শরিকি কোন্দলে জেরবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। মঙ্গলবার রাতের বৈঠকের পর জানা গেছে, আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা হলেও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর ও বাদুড়িয়া আসন নিয়ে এখনও স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। খোদ নওশাদ সিদ্দিকী বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু আইএসএফ নেতৃত্বকে দ্রুত চূড়ান্ত তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে আসল অস্বস্তি শুরু হয়েছে ঘরের ভেতরেই। সিপিএমের ‘একতরফা’ প্রার্থী ঘোষণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক। রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোচবিহার উত্তর, জলপাইগুড়ি, হরিশ্চন্দ্রপুর এবং গলসি—এই আসনগুলোতে বাম আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে তাঁদের। কিন্তু সিপিএম আলোচনার তোয়াক্কা না করেই সেখানে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। ক্ষুব্ধ নরেনবাবু ইতিমধ্যেই বিমান বসুকে চিঠি লিখে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনকি জলপাইগুড়িতে ফরওয়ার্ড ব্লক আলাদা প্রার্থী দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আজ বুধবার ফের বৈঠকে বসছে বামফ্রন্ট। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আসন বন্টন নিয়ে মহম্মদ সেলিম ও নরেন চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে আজ তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে পারে। শরিকি বিদ্রোহ সামলে বৃহস্পতিবার বাকি আসনের তালিকা ঘোষণা করা বামেদের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।