বাবা-মাকে হারানোর পর একা, নোট লিখে নিরুদ্দেশ নাবালিকা ছাত্রী, এক সপ্তাহ পরেও মেলেনি খোঁজ

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। চন্দননগর থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। সোশাল মিডিয়ায় ছবি দিয়েও খোঁজ চালানো হচ্ছে।

নিখোঁজ ছাত্রীর নাম শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায় (১৫)। সে ইমামবাড়ার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং এই বছর তার বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। গত নয় মাস আগে তার মায়ের ক্যান্সারে মৃত্যু হয়। এরপর বাবারও মৃত্যু হয়। তখন থেকেই সে চন্দননগরের কাঁটাপুকুরে মামার বাড়িতে দাদু-দিদিমার কাছে থাকছিল। পরিবারের দাবি, সে সেভাবে কারও সঙ্গে কথা বলত না এবং স্কুলের যাতায়াতের জন্য পুলকারের বদলে টোটো ব্যবহার করত।

নোট লিখে নিরুদ্দেশ
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল শর্মিষ্ঠা। বাড়িতে বলেছিল, টোটো করে একাই যাবে। কিন্তু পরে স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে ওইদিন স্কুলে যায়নি। পরে ফোন করে সে বাড়িতে জানায় যে সে ঠিক আছে, কিন্তু এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবার তার বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়েও কোনো হদিশ পায়নি।

ছাত্রীর মামা অমিত পাল জানান, তারা ইংরেজিতে লেখা একটি নোট পেয়েছেন। সেই নোটে শর্মিষ্ঠা লিখেছে যে সে নিজের ইচ্ছায় কারও সঙ্গে চলে যাচ্ছে। তবে সে কোথায় গেল বা কোনো অসাধু চক্রের খপ্পরে পড়েছে কি না, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন।

পুলিশের তৎপরতা
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একজন নাবালিকা ছাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। মিসিং পোর্টালে তার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তার ফোন ট্র্যাক করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত তার খোঁজ করার চেষ্টা করছি।”

শর্মিষ্ঠার দাদু শঙ্কর পাল এবং দিদিমা পার্বতী পাল দুজনেই তাদের নাতনির জন্য কান্নাকাটি করছেন এবং বারবার তার ফোনে ফোন করার চেষ্টা করছেন। তারা পুলিশকে যত দ্রুত সম্ভব তাদের নাতনিকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করেছেন।