বাবার পথেই কি ছেলেরা? অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যাওয়ার পথে পুলিশের সামনেই তাণ্ডব চালাল মাফিয়া আতিকের অনুগামীরা!

উত্তরপ্রদেশের গ্যাংস্টার তথা প্রয়াত মাফিয়া নেতা আতিক আহমেদের পরিবার এবং তার অনুগামীদের বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এর আগে আতিকের আরেক ছেলে ওমর আহমেদের কনভয়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পর, এবার কাঠগড়ায় দাঁড়াল ঝাঁসি জেলে বন্দি থাকা আতিকের অন্য এক ছেলে আলী আহমেদ। ভাইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে আলী আহমেদের গাড়িবহর বা কনভয়কে অনুসরণকারী সমর্থকদের প্রায় ১০টি বেপরোয়া গাড়ির বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলার দুটি পৃথক থানায় অত্যন্ত গুরুতর ধারায় একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত বিবরণে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ঝাঁসি জেল থেকে পুলিশি কাস্টডিতে বা প্যারোলে প্রিজন ভ্যানে করে প্রয়াগরাজের দিকে যাচ্ছিলেন আলী আহমেদ। সেই সময় তাঁর নিরাপত্তার কনভয় ও সমর্থক বোঝাই বেশ কিছু বিলাসবহুল গাড়ি ফতেহপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, ফতেহপুরের কল্যাণপুর ও খাগা—এই দুটি এলাকার প্রধান টোল প্লাজাগুলি পার হওয়ার সময় আলীর সমর্থক ও গাড়িবহরের লোকজন চরম ঔদ্ধত্য দেখায়। টোল প্লাজার কর্মীরা নিয়মমাফিক নির্দিষ্ট টোল ট্যাক্স দিতে বললে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কর্মরত কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। শুধু তাই নয়, টোল কর্মীদের প্রাণের মারার বা হত্যার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে ধাক্কা মারার চেষ্টা করা হয় বলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কোনো ধরনের টোল ট্যাক্স পরিশোধ না করেই জোরজবরদস্তি টোল ব্যারিয়ার ভেঙে গাড়িগুলোকে পার হতে বাধ্য করা হয়।

এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। বারৌরি টোল প্লাজার ম্যানেজার জিতেন্দ্র সিংয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কল্যাণপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, কাটোঘান টোল প্লাজার সহকারী ম্যানেজার সোনু সিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খাগা থানায় আরও একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আতিকের অপর এক ভাই বা ছেলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথেই এই বিশৃঙ্খলাটি সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তৎপর হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজাগুলির সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কনভয়ে অংশ নেওয়া গাড়িগুলির সুনির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সিসিটিভির ভিজ্যুয়াল সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে ফতেহপুর পুলিশ। কোন কোন গাড়িতে ঠিক কারা উপস্থিত ছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল, তা বের করার চেষ্টা চলছে। এর আগে মাফিয়া নেতা আতিক আহমেদের আরেক ছেলে ওমর আহমেদকে যখন লখনউ জেল থেকে প্রয়াগরাজে স্থানান্তর করা হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় নবাবগঞ্জ টোল প্লাজাতেও প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ব্যক্তিগত গাড়ি একইভাবে জোর করে টোল না দিয়ে ব্যারিয়ার পার হয়ে ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় গ্যাংস্টার পরিবারের আইন অমান্যের প্রবণতা নিয়ে ফের তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংগৃহীত ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।