বাবার দলের নামেই নতুন দল! বিআরএস-কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ‘টিআরএস’ গড়লেন কেসিআর কন্যা কবিতা!

জল্পনাই সত্যি হলো। দীর্ঘ টালবাহানা আর পারিবারিক তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ালেন কে. কবিতা। শনিবার মেদচলের মুনরাবাদ থেকে তিনি তাঁর নতুন দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সেনা (TRS) চালুর কথা ঘোষণা করলেন। মজার বিষয় হলো, তাঁর বাবা কে চন্দ্রশেখর রাও (KCR) যখন তেলেঙ্গানা আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর দলের নামও ছিল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (TRS), যা পরে নাম বদলে ‘ভারত রাষ্ট্র সমিতি’ (BRS) হয়। আজ বাবার সেই পুরনো পরিচিতিকেই হাতিয়ার করে নিজের নতুন যাত্রা শুরু করলেন কবিতা।

কেন এই নতুন দল? গত সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ‘দলবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে বিআরএস থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন কবিতা। তাঁর দাদা কেটিআর এবং খুড়তুতো ভাই হরিশ রাওয়ের সঙ্গে তাঁর ক্ষমতার লড়াই তুঙ্গে উঠেছিল। এদিন কবিতা সরাসরি অভিযোগ করেন, “বিআরএস তার আত্মা হারিয়েছে। আমার বাবা যাঁদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, তাঁরা তেলেঙ্গানার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমি বাধ্য হয়েই এই দল গড়েছি তেলেঙ্গানার মাটির টান মেটাতে।”

বাবার স্মৃতি ও নতুন প্রতীক: কে. কবিতা এদিন সচেতনভাবেই তাঁর বাবার পুরনো দলের নাম (TRS) বেছে নিয়েছেন, যাতে তিনি প্রমাণ করতে পারেন তিনিই আসল তেলেঙ্গানা আন্দোলনের উত্তরসূরি। তবে দলের পতাকা ও রঙে এসেছে পরিবর্তন। বিআরএস-এর পরিচিত গোলাপি রঙের পরিবর্তে কবিতার নতুন দলের পতাকায় থাকছে হলুদ, নীল ও সবুজ রঙ, যার মাঝখানে থাকবে তেলেঙ্গানার নীল মানচিত্র।

পাঁচ দফা ইস্তাহার: নতুন দল গড়েই ধামাকা দিয়েছেন কবিতা। তিনি ৫টি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:

  • বিনামূল্যে শিক্ষা: সরকারি তো বটেই, বেসরকারি স্কুলেও বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার।

  • বিনামূল্যে চিকিৎসা: সব ধরণের মারণ রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসার নিশ্চয়তা।

  • কৃষকই রাজা: কৃষকদের জন্য বিশেষ মর্যাদা ও আর্থিক সহায়তা।

  • চাকরি: ক্ষমতা দখলের এক বছরের মধ্যে ৪ লক্ষ কর্মসংস্থান।

  • সামাজিক ন্যায়: তেলেঙ্গানায় পিছিয়ে পড়া বর্গের জন্য সংরক্ষিত শাসন ব্যবস্থা।

পরিবার ও রাজনীতির সমীকরণ: কবিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁকে দল থেকে “তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে”, তিনি নিজে থেকে সরেননি। তাঁর এই পদক্ষেপে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিআরএস এবং বর্তমান শাসক দল কংগ্রেসের। কারণ, কবিতার এই নতুন দল তেলেঙ্গানার আঞ্চলিক ভাবাবেগকে সুড়সুড়ি দিয়ে ভোটের সমীকরণ ওলটপালট করে দিতে পারে।

উপসংহার: কেসিআর-এর মেয়ের এই ‘বিদ্রোহ’ কি তেলেঙ্গানায় নতুন কোনো সূর্যোদয় ঘটাবে, নাকি স্রেফ পারিবারিক কোন্দলের রেশ হয়ে থেকে যাবে— তা সময় বলবে। তবে আজকের এই ঘোষণা দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে যে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy