বাতাসে ছড়ায় না ইবোলা! তবুও কেন হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ? জেনে নিন বাঁচার উপায়

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রাপ্ত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইতিমধ্যেই ৬,১00 জনেরও বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর জেরে ৩,০০০-এরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোগের এই অস্বাভাবিক ও দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনেও গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই মারণ ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—সকলের পক্ষেই চরম সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা সংক্রমণের সংস্পর্শে আসার সাধারণত ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করে। তবে অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে সাধারণত ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে উপসর্গগুলি দেখা দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণগুলিকে ‘ড্রাই সিম্পটমস’ বা শুষ্ক লক্ষণ বলা হয়, যার মধ্যে থাকে হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, হাড়ের জয়েন্ট ও পেশিতে যন্ত্রণা এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি। রোগটি শরীরের ভেতরে জটিল আকার ধারণ করলে উপসর্গগুলি ক্রমশ তীব্র হয়, যাকে ‘ওয়েট সিম্পটমস’ বা সিক্ত লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই পর্যায়ে ডায়রিয়া, বমি এবং মারাত্মক অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তপাতের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, ইবোলা হল একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত রক্তনালীগুলিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না, অর্থাৎ কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এটি কেবল তখনই ছড়ায় যখন কোনো সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত বা মৃত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মূত্র এবং বীর্যের মতো শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শে আসেন। লক্ষণ প্রকাশের পরেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা তৈরি হয়। পাশাপাশি, মানুষ ছাড়াও বাদুড়, বন্য হরিণ, বানর ও শিম্পাঞ্জির মতো সংক্রামিত বন্য প্রাণীদের থেকেও এই রোগ ছড়াতে পারে।

এই মারণ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো রকম শারীরিক তরল পদার্থের সংস্পর্শে না আসা। রোগীর ব্যবহৃত কাপড়, বিছানাপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী স্পর্শ করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া, ইবোলা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মারণ ভাইরাসের বিস্তার রোধে সচেতনতা এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।