মলের ভেতরে আগুন লাগলে কী হবে? ভিড়ে ঠাসা শপিং মলে দমকলের হানা ঘেরা চাঞ্চল্য!

আজ জনবহুল এলাকায় অবস্থিত শপিং মলগুলির অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতখানি সুরক্ষিত, তা নিয়ে ফের জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা হাওড়ার শিবপুরের অবনি মলে সম্প্রতি এক আকস্মিক ও কঠোর অভিযান চালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দমকল বিভাগ। ছুটির দিনে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে ঠাসা এই শপিং মলের অন্দরে আগুন লাগার মতো মারাত্মক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকাঠামো কতটা প্রস্তুত, তা হাতে-কলমে যাচাই করতেই এই বিশেষ পরিদর্শন চালানো হয়। দমকল আধিকারিকদের এই اچান্ক পদক্ষেপে মলের ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার দমকলের একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল অবনি মলের প্রতিটি তলায় গিয়ে সেখানকার ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম তন্নতন্ন করে খতিয়ে দেখে। মলের ভেতরে থাকা অত্যাধুনিক স্প্রিংলার সিস্টেম, স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার অ্যালার্ম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের কার্যকারিতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই ম্যারাথন পরীক্ষার সময় একাধিক কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি আধিকারিকদের চোখে পড়ে। বিশেষ করে কিছু কিছু জোনে স্মোক ডিটেক্টরগুলির সঠিক সময়ে সিগন্যাল পাঠানোর ক্ষমতা এবং জলের পাইপলাইনে পর্যাপ্ত প্রেসার রয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই ধরনের প্রিভেন্টিভ চেকিং বা প্রতিরোধমূলক অভিযান চালাচ্ছে দমকল বিভাগ। পরিদর্শনের কাজ শেষ হওয়ার পর দমকলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অবনি মল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে যে সমস্ত জায়গায় ত্রুটি ও গাফিলতি ধরা পড়েছে, সেগুলির তালিকা মল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং অবিলম্বে তা মেরামত ও সংস্কার করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ফায়ার সেফটি প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। দমকলের এই কড়া অবস্থানের ফলে কলকাতার সংলগ্ন সমস্ত বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিং মলগুলিতে এখন নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।