ঘাসফুল প্রতীকের আসল দাবিদার কে? নির্বাচন কমিশনের মহা বৈঠকে ফাঁস হতে পারে সব রহস্য!

তৃণমূলের প্রতীক এবং তহবিলের উপর ঠিক কার বা কাদের বৈধ অধিকার রয়েছে—‘কালীঘাট-তৃণমূল’ নাকি ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’? এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর পেতে আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। আগামী ৬ অক্টোবরের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনের আগেই কি তবে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার লড়াইয়ের আইনি ফয়সালা হয়ে যেতে পারে? রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় জল্পনা উস্কে দিয়ে শনিবারই রাজধানীর নির্বাচন সদনে দুই শিবিরের মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তৃণমূলের উভয় পক্ষের পাঁচজন করে সর্বমোট দশজন প্রতিনিধিকে সরাসরি উপস্থিত থাকার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে পারদ চড়ছে।

গত কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তারই চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম। দলের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্ব বনাম ভিন্ন মতাবলম্বী শিবিরের এই টানাপোড়েনে ঘাসফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। কার হাতে থাকবে দলীয় তহবিল এবং কোন পক্ষ বৈধভাবে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ বেঞ্চ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই জরুরি বৈঠক কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি আগামী দিনের বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। যদি উপনির্বাচনের আগেই এই দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি ঘটে, তবে ভোটের ময়দানে তার ব্যাপক প্রভাব পড়বে তা বলাই বাহুল্য। উভয় শিবিরের শীর্ষ প্রতিনিধিরা তাদের সমস্ত আইনি দলিল, নথিপত্র এবং পালটা দাবিদাওয়া কমিশনের সামনে পেশ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন কার পালে হাওয়া দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কার হাতে তুলে দেয় আসল তৃণমূলের ব্যাটন।