বাণিজ্যের নতুন শিখরে ভারত! বিশ্ববাজারে ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’-র দাপট নিয়ে বড় বার্তা পীযূষ গোয়েলের

ভারতের পণ্য মানেই বিশ্বমানের—এই বার্তা আরও জোরালো করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। শনিবার এক বিশেষ বার্তায় তিনি দেশের উদ্যোক্তাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো পণ্যে যখন ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেবেল লাগানো হয়, তখন সেই পণ্য শুধু একটি ব্র্যান্ড নয়, বরং সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, ভারতীয় উদ্যোক্তাদের কাছে গুণমান বা কোয়ালিটি বজায় রাখা কেবল ব্যবসার শর্ত নয়, এটি দেশের প্রতি এক পবিত্র দায়িত্ব।
লন্ডনে আয়োজিত এক ব্যবসায়িক সম্মেলনে পীযূষ গোয়েল তামিলনাড়ুর আম্বুরের ‘ফ্লোরেন্স শু কোম্পানি’-র প্রতিষ্ঠাতা আকিল পানারুনার একটি অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরেন। আকিল জানান, কায়রো বিমানবন্দরে এক আন্তর্জাতিক ক্রেতা একজোড়া বিলাসবহুল ‘হুগো বস’ জুতো দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। লেবেল চেক করতেই তিনি দেখেন তাতে লেখা— ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’। অর্থাৎ, বিশ্বসেরা ব্র্যান্ডের সেই জুতোজোড়া তৈরি হয়েছে ভারতের মাটিতেই।
মন্ত্রী গোয়েল এই সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, আকিলের মতো উদ্যোক্তারা প্রমাণ করছেন যে, ভারতের কারুশিল্প বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ডের কাছে কতটা নির্ভরযোগ্য। শুধু পণ্য উৎপাদন নয়, আকিলের কোম্পানি গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং উৎপাদন খাতে নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’-এর মতো পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁরা টেকসই উন্নয়নের নতুন দিশা দেখাচ্ছেন।
ভারত ও ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে এদিন মন্ত্রী বেশ আশাবাদী শোনান। ভারত-ব্রিটেন ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (CETA)-র মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে। পীযূষ গোয়েল বলেন, “আকিলের মতো উদ্যোক্তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’ আজ গুণমানের সর্বোচ্চ শিখরে রয়েছে।” যেসব উদ্যোক্তা ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেবেলকে আস্থা, উৎকর্ষ ও গর্বের প্রতীকে পরিণত করছেন, তাঁদের কুর্নিশ জানিয়েছেন মন্ত্রী।
দিনের শুরুতে পীযূষ গোয়েল এশিয়া হাউস এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে ভারতের শক্তিশালী উৎপাদন পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া ইউকে ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিল (ইউকেআইবিসি)-এর সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সভায় তিনি ভারতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। সামগ্রিকভাবে, মন্ত্রীর এই সফর ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার এবং বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।