আপনার কি একটি বাড়তি ফ্ল্যাট বা ফাঁকা জমি পড়ে আছে? ভাবছেন তা ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে একটি নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা করবেন? প্রপার্টি থেকে মোটা টাকা আয় করার পরিকল্পনা থাকলে আপনাকে বুঝতে হবে বিনিয়োগের আসল অংক। পেশাদার রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীদের মতে, লাভের আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে ‘রেন্টাল ইল্ড’ (Rental Yield)-এর মধ্যে।
লাভের অঙ্ক: কমার্শিয়াল বনাম রেসিডেন্সিয়াল
সাধারণত রেসিডেন্সিয়াল বা বসবাসের ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ করলে বছরে ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত লাভ পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি যদি কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক সম্পত্তিতে (যেমন দোকান বা অফিস স্পেস) বিনিয়োগ করেন, তবে লাভের পরিমাণ একলাফে ৬ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। অর্থাৎ, লাভের হিসেবে কমার্শিয়াল প্রপার্টি অনেক এগিয়ে।
পুঁজি ও স্থিতিশীলতা:
বড় লাভের জন্য প্রয়োজন বড় পুঁজি। একটি ৫০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাটের তুলনায় একটি ৮০ লক্ষ টাকার দোকানের ভাড়া অনেক বেশি হয়। কমার্শিয়াল লিজে সাধারণত ৩ থেকে ৯ বছরের চুক্তি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী আয়ের নিশ্চয়তা দেয়। অন্যদিকে, রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টির ক্ষেত্রে সাধারণত ১১ মাসের এগ্রিমেন্ট করা সুবিধাজনক।
লোকেশন যখন আসল হিরো:
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লোকেশনই শেষ কথা। আপনার ফ্ল্যাটটি যদি স্কুল, কলেজ বা মেট্রো স্টেশনের কাছে হয়, তবে মাত্র ১৫ দিনেই ভাড়াটে নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, কমার্শিয়াল প্রপার্টি যদি মেইন রোডের ওপর না হয়, তবে কিন্তু বড়সড় লোকসানের ঝুঁকি থাকে। অফিস বা দোকান খালি হলে তা ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ফাঁকা পড়ে থাকার ভয় থাকে, যা রেসিডেন্সিয়াল ক্ষেত্রে কম।
ট্যাক্স ছাড় ও রক্ষণাবেক্ষণ:
ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেন্যান্স খরচ তুলনামূলক কম। এছাড়া একটি বড় সুবিধা হলো, ভাড়ার ওপর প্রাপ্ত আয়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড ট্যাক্স ছাড় পাওয়া যায়।
আপনার জন্য কোনটি সেরা?
আপনার যদি ধৈর্য এবং বড় অঙ্কের পুঁজি থাকে, তবে কমার্শিয়াল প্রপার্টি বেছে নিন। আর যদি কম ঝুঁকিতে প্রতি মাসে নিয়মিত আয়ের উৎস চান, তবে রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাটই আপনার জন্য সেরা বিকল্প। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই এলাকা সার্ভে করুন, কারণ সঠিক প্রপার্টিই নিশ্চিত করবে আপনার ভবিষ্যৎ।





