বাজেটে বড় চমক! নোট বাতিলের প্রস্তাব দিলেন সাংসদ, কালো টাকা ফেরাতে হবে ২০ শতাংশ কর

সংসদের বাজেট অধিবেশনে রবিবার এক সাহসী ও চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব পেশ করলেন বিরোধী দলের এক সাংসদ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানালেন। কালো টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে এই প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

প্রস্তাবটি পেশ করেছেন বাংলাদেশের বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁর মতে, দেশে জমে থাকা কালো টাকা উদ্ধার এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ‘কালো টাকা’ উদ্ধারের জন্য তিনি এক নতুন রণকৌশল তুলে ধরেছেন।

সাংসদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বহু মানুষ নিজেদের উপার্জিত বিশাল অঙ্কের নগদ অর্থ ব্যাঙ্কে জমা না রেখে বাড়িতে লুকিয়ে রাখছেন। এ ছাড়া, দুর্নীতি করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে যা অর্থনীতিতে কোনো কাজে আসছে না। এই অচল টাকা উদ্ধার করতে তিনি একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব, সরকার যদি ঘোষণা করে যে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ৫০০ ও ১০০০ টাকার সমস্ত নোট ব্যাঙ্কে জমা দিতে হবে, তবেই সেই অলস অর্থ মূল ধারার ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।

শুধু নোট বাতিলই নয়, কালো টাকা বৈধ করার বিষয়েও একটি বিশেষ কৌশলের কথা শুনিয়েছেন তিনি। সাংসদ খোকন বলেন, যাদের কাছে এমন অর্থ রয়েছে যার বৈধ আয়ের উৎস তারা দেখাতে পারছেন না, তাদের সেই টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। বিনিময়ে, সেই অর্থের ওপর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে বিশেষ কর বা জরিমানা ধার্য করা যেতে পারে। এই উপায়ে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব পাবে, তেমনই সেই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতার পর থেকেই বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে বারবার। কিন্তু বাস্তবে আন্তর্জাতিক আইন ও জটিল আর্থিক ব্যবস্থার কারণে সেই টাকা ফেরত আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিদেশে পাচার হওয়া টাকা নিয়ে সময় নষ্ট না করে, দেশের ভেতরে জমে থাকা কালো টাকাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার ওপরই জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাংসদের এই প্রস্তাব সংসদীয় বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাজেট অধিবেশনের মাঝে নোট বাতিলের মতো এমন একটি বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করায় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার ঝড় উঠেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বা বাজেটের পরবর্তী ধাপে এই প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখন চলছে জোর জল্পনা। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সত্যিই কি বড় অঙ্কের এই নোটগুলো ফের বাতিলের পথে হাঁটবে সরকার? এখন নজর থাকবে পরবর্তী সংসদীয় অধিবেশনের দিকে।