‘বাঙালিরা শুধু আড্ডা দেয় না, ব্যবসা বোঝে’! বাংলার অর্থনৈতিক অধঃপতন নিয়ে বড় মন্তব্য

একসময় তাম্রলিপ্ত বা চন্দ্রকেতুগড়ের মতো প্রাচীন বন্দর এবং সাহা-বণিকদের হাত ধরে বাণিজ্যে স্বর্ণযুগ পার করা বাংলা আজ অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রায় ৫০ বছর পিছিয়ে পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিনের ভুল মানসিকতা এবং একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা তথা বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যাল। পুজোার আগে ‘নিউজ ১৮ বাংলা’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলার হারানো গৌরব ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

সঞ্জীব সান্যালের মতে, বিগত কয়েক দশক ধরে সুপরিকল্পিতভাবে বাংলার মানুষের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া হয়েছিল যে বাঙালিরা ব্যবসা করতে পারে না এবং তারা অলস। অথচ প্রাচীনকাল থেকেই চাঁদ সদাগর থেকে শুরু করে মোহিনী মিলস বা সুলেখা—বাঙালি মানেই উদ্যোগপতি। কিন্তু ৫০ বছরের বাম জমানা ও একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাবে বাংলার অর্থনীতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলায় কম্পিউটার আসার ক্ষেত্রে কড়া বাধা দেওয়াই ব্যাঙ্গালোরের মতো শহরের উত্থান এবং কলকাতার অবক্ষয়ের মূল কারণ। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, কলকাতার মৃত্যু ঘটেনি, কলকাতাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ। চতুর্থীর দিন টাটার প্রস্থান থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে হলদিয়ায় একের পর এক নতুন শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন—এই দুইয়ের ফারাকই প্রমাণ করে যে মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আসছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের পাশাপাশি বাঙালিকে নিজের উদ্যোগপতি সত্তায় ফের বিশ্বাস রাখতে হবে এবং ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ, সুভাষচন্দ্র বসু বা রবীন্দ্রনাথের এই মাটিতে বাণিজ্য ও উদ্ভাবনের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমে নিজেদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।