প্লাস্টিক-বালতি থেকে ঘরের বাতিল জিনিস, এন্টালির পুজো মণ্ডপে চোখ ধাঁধানো বৌদ্ধ দর্শনের ছোঁয়া!

কলকাতার দুর্গাপূজার মানচিত্রে বরাবরই নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে চলেছে শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটি ‘এন্টালি মাতৃভূমি’। চলতি বছর ৭৮তম বর্ষে পদার্পণ করল এই জনপ্রিয় পুজো। আর এই বিশেষ মাইলফলক ছোঁয়ার বছরে উদ্যোক্তারা সাধারণ মানুষের জন্য নিয়ে এসেছেন এক অভিনব ও মননশীল থিম—‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’। বৈষয়িক মোহাচ্ছন্নতা থেকে মুক্তি এবং মানসিক শান্তির বার্তা দিতে এ বছরের থিমে মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে প্রতিটি কোণায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বৌদ্ধ সংস্কৃতির নান্দনিক রূপ।
এবারের পুজোয় ‘এন্টালি মাতৃভূমি’ দুর্গোৎসব কমিটির মূল আকর্ষণ তাদের প্যান্ডেল এবং প্রতিমার সৃজনশীল রূপায়ণ। আধুনিক প্যান্ডেল হপিংয়ের ভিড়ে একটু অন্যরকম আবহ তৈরি করতে উদ্যোক্তারা মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করেছেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত নানা সাধারণ সামগ্রী। সাধারণ মানুষ বাড়িতে প্রতিদিন যে সমস্ত জিনিসপত্র ব্যবহার করেন, যেমন—প্লাস্টিকের বালতি, মগ, ঝুড়ি এবং ঘরের বিভিন্ন আবর্জনা বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র, সেগুলোকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে সুবিশাল বৌদ্ধ স্তূপ ও মঠের আদল। এই অভিনব শিল্পকলা যেমন পরিবেশবান্ধব বার্তা দিচ্ছে, তেমনই সাধারণ সামগ্রীকে শিল্পে রূপান্তর করার এই প্রয়াস দর্শকদের মাঝে এক নতুন বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
পুজো কমিটির কর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান যান্ত্রিক ও ব্যস্ত জীবনে মানুষ যখন মানসিক অবসাদ ও শান্তির খোঁজে দিশেহারা, ঠিক সেই সময়ে গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও শান্তির বাণীকে সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই থিম নির্বাচন করা হয়েছে। মণ্ডপের ভেতর প্রবেশ করলেই আলো ও শব্দের এক সুনির্দিষ্ট বিন্যাসের মধ্য দিয়ে দর্শকদের মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক ভাবনার উদ্রেক হবে। ইতিমধ্যেই পঞ্চমীর সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে এন্টালির এই মণ্ডপে। থিমের অভিনবত্ব এবং নিখুঁত কারুকার্যের টানে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন ৭৮ বছরের এই প্রাচীন পুজো প্রাঙ্গণে। সব মিলিয়ে, পুজোর কদিন এন্টালি মাতৃভূমির এই বৌদ্ধ থিম যে শহরবাসীর মনে গভীর ছাপ ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।