‘বাইডেন দেশ বা দলের স্বার্থে নয়, অহংকারের বশে প্রার্থী হয়েছিলেন’! বিস্ফোরক স্মৃতিকথায় কমলার তীব্র আক্রমণ

প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের আসন্ন স্মৃতিকথা আমেরিকার রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে চলেছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বাইডেন দেশ বা দলের স্বার্থে নয়, বরং ব্যক্তিগত অহংকার থেকে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

‘দ্য আটলান্টিক’ পত্রিকায় প্রকাশিত কমলার স্মৃতিকথার একটি অংশে তিনি লিখেছেন, বাইডেনকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একটি বাক্য বারবার শোনা যেত, “এটা জো আর জিলের সিদ্ধান্ত”। কমলা হ্যারিসের মতে, সবাই যেন সম্মোহিতের মতো এই কথা বলত। তখন তিনি এটিকে সৌজন্য মনে করলেও এখন বুঝতে পারছেন, এটি ছিল একটি অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত।

কমলা হ্যারিসের লেখা ‘১০৭ ডেজ’ বইটিতে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, বাইডেনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা ইচ্ছে করেই তাঁকে আড়ালে রেখেছিলেন। তাঁরা কখনও চাননি কমলার সাফল্য সামনে আসুক। “তাদের ভাবনা ছিল শূন্য-সমীকরণ: আমি যদি আলোয় আসি, তাহলে বাইডেন ম্লান হয়ে যাবেন,” লিখেছেন কমলা। অথচ বাইডেনের বয়স নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছিল, তখন কমলার সাফল্যই তাঁর বিচক্ষণতার প্রমাণ হতে পারত।

তবে বাইডেনের সক্ষমতা নিয়ে বড় কোনো অভিযোগ করেননি কমলা। তিনি স্বীকার করেছেন, “জো ছিলেন বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ এবং নীতিগতভাবে দৃঢ়। কিন্তু ৮১ বছর বয়সে ক্লান্তি তাঁকে ছাপিয়ে যেত।” জুলাই ২০২৪-এ বাইডেন যখন পুনর্নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান, তখন মাত্র ১০৭ দিনের প্রচারে কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন। কিন্তু নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন।

বর্তমানে রাজনীতিতে অনেকটা নীরব থাকলেও কমলার এই স্মৃতিকথা ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।