“বাইকে পালানো সহজ!”— ভোটের দিন বাইক নিষিদ্ধ করা নিয়ে হাইকোর্টে বিস্ফোরক যুক্তি নির্বাচন কমিশনের!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাইক বাহিনীর দাপট রুখতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) জারি করা কড়া নির্দেশিকা নিয়ে এখন তোলপাড় কলকাতা হাইকোর্ট। ভোটের দিন এবং তার আগে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় চাঞ্চল্যকর সওয়াল করল কমিশন। তাঁদের সাফ দাবি— দুষ্কৃতীদের জন্য বাইকে করে পালিয়ে যাওয়া সবথেকে সহজ, তাই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এই বিধিনিষেধ অপরিহার্য।

হাইকোর্টে কমিশনের সওয়াল

মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গিয়েছে যে বাইক ব্যবহার করেই সবথেকে বেশি অশান্তি ছড়ানো হয়। কমিশনের যুক্তিগুলি হলো:

  • দ্রুত পলায়ন: বাইক সরু গলি দিয়েও খুব দ্রুত যাতায়াত করতে পারে, ফলে কোনো অপরাধ করার পর দুষ্কৃতীদের পালিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

  • ভয় দেখানো: বাইক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ নতুন কিছু নয়।

  • নজরদারিতে সুবিধা: বড় গাড়ির তুলনায় বাইকের ওপর নজরদারি চালানো কঠিন, তাই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুনানি চলাকালীন মাননীয় বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ ভোটার বা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কোনো সমস্যা হবে কি না। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শান্তি বজায় রাখার নামে সাধারণ মানুষের মৌলিক যাতায়াতের অধিকারে যেন বড়সড় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকেও কমিশনকে খেয়াল রাখতে হবে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু

বিরোধীদের একাংশ দাবি করছে, এই নির্দেশিকার ফলে গ্রামের দিকে অনেক ভোটার বুথে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়বেন। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের অভিযোগ— নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই দ্বিমুখী বিতর্কের মাঝেই কমিশনের এই ‘পালিয়ে যাওয়া সহজ’ সংক্রান্ত যুক্তি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy