২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে আজ উত্তরবঙ্গ থেকে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার কোচবিহারের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মোদী সাফ জানিয়ে দিলেন— “নির্বাচন মিটলেই শুরু হবে পাপের হিসাব।” ভয়মুক্ত বাংলার গ্যারান্টি: উত্তরবঙ্গের মানুষের উদ্দেশ্যে আশ্বাসের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ভয় পাওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে। বাংলা থেকে এবার ভয় পালাবে। যারা আপনাদের ওপর অন্যায় করেছে, যারা সাধারণ মানুষের টাকা লুট করেছে, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে।” মোদীর এই ‘ভয়মুক্ত বাংলা’র ডাক আসলে শাসক শিবিরের জন্য এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দুর্নীতি ও ‘পাপের হিসাব’: এদিন মোদীর নিশানায় ছিল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্দেশখালি ইস্যু। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার বাংলার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে অপরাধীদের অভয়ারণ্য তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার মা-বোনেদের চোখের জলের দাম দিতে হবে। নির্বাচনের পর আইন তার নিজের পথে চলবে এবং প্রতিটি পাপের কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব নেওয়া হবে।”
মোদীর আক্রমণের ৩টি প্রধান দিক:
তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট: উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন কেন থমকে আছে, তার জন্য সরাসরি তৃণমূলের ‘কাটমানি’ কালচারকে দায়ী করেছেন তিনি।
বিজেপি কর্মীদের সুরক্ষা: রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বিজেপি কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোদী বলেন, “বিজেপি সরকার এলে এক একজনের বিচার হবে।”
উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট: কোচবিহার ও উত্তরবঙ্গের জন্য বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আশ্বাস দেন তিনি।
বিশেষ হাইলাইট: সভার মাঝেই গর্জনে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা, যখন মোদী বলেন— “আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছি, আর এই লড়াইতে আপনাদের আশীর্বাদই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
উপসংহার: শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুভেন্দু অধিকারী— রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে মোদীর এই ‘হিসাব নেওয়ার’ বার্তা ২০২৬-এর নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। কোচবিহারের এই জনসমুদ্র কি তবে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? উত্তর মিলবে আগামী ব্যালট যুদ্ধে।





