‘বাংলার সেবা আমার পরম কর্তব্য’, বঙ্গবাসীকে খোলা চিঠি মোদির! রাম মন্দিরের সেই ১১ দিনের স্মৃতি ফেরালেন বঙ্গে?

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর কলমে ধরা পড়ল এক ভিন্ন আবেগ। সোমবার ব্যারাকপুরে শেষ নির্বাচনী প্রচার সেরে পশ্চিমবঙ্গ ও বঙ্গবাসীর উদ্দেশে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি এবং অডিও বার্তা প্রকাশ করলেন নরেন্দ্র মোদি। রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই বার্তায় তিনি বারবার তুলে ধরেছেন বাংলার প্রতি তাঁর গভীর টানের কথা।

গভীর রাতে একান্তে কী করেন প্রধানমন্ত্রী? নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে শেয়ার করা এই চিঠিতে মোদি এক গোপন অনুভূতির কথা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “বাংলায় অনুষ্ঠিত সমস্ত র‍্যালি ও রোডশোতে আমি যে পরিমাণ ভালোবাসা ও ছবি পেয়েছি, তা ভোলা অসম্ভব। প্রচার শেষে যখনই সুযোগ পাই, গভীর রাতে আমি একা বসে শান্তিতে সেই ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি।” এমনকি সাধারণ মানুষের পাঠানো চিঠি ও বার্তার জবাবও তিনি মনে মনে তৈরি করে রাখেন বলে জানিয়েছেন।

রাম মন্দিরের আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে তুলনা সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মোদি এই নির্বাচনী প্রচারকে কেবল রাজনীতির চশমায় দেখেননি। তিনি লিখেছেন, “২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে আমি ১১ দিনের যে কঠোর আধ্যাত্মিক অনুশাসন পালন করেছিলাম, ঠিক একই আধ্যাত্মিক অনুরণন আমি অনুভব করেছি বাংলার এই প্রচার চলাকালীন।” দেবীর মন্দিরে প্রার্থনা করার সময় যে প্রশান্তি মেলে, বাংলার মাটি তাঁকে সেই অনুভূতি দিয়েছে বলে দাবি মোদির।

‘উন্নত বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার নিজের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বাংলার নারীশক্তি, যুবশক্তি এবং কৃষক-শ্রমিকদের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়:

“বাংলার তরুণরা আজ সুযোগের উন্মুক্ত আকাশ চায়। আমাদের কন্যারা চায় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা। আমি বুঝেছি, বাংলার প্রতিটি নাগরিকের একটিই সংকল্প— ‘এখনই পরিবর্তনের সময়’।”

নিরাপত্তার আশ্বাস চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন তাঁর দায়বদ্ধতার কথা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বাংলার মানুষের সেবা করা এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর পরম কর্তব্য। ভয়মুক্ত পরিবেশ এবং আস্থার বাতাবরণ তৈরি করতে বিজেপির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy