বাংলায় শুরু হলো আয়ুস্মান ভারতের পেমেন্ট ও ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া! কীভাবে মিলবে কার্ড?

বাংলায় একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের পাশাপাশি এবার বৃদ্ধ ও দুঃস্থ মানুষদের জন্য আয়ুস্মান ভারত কার্ডের আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আশাকর্মী, বিডিও অফিস এবং পৌরসভার মাধ্যমে অফলাইনে আয়ুস্মান কার্ডের ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হলেও, মূল কাজটি অর্থাৎ অনলাইনে ই-কেওয়াইসি করা এখনও বাকি রয়েছে অনেকেরই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, অনলাইনে সঠিকভাবে ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করলেই তবেই আবেদনকারীরা হাতে পেতে পারেন বহুল কাঙ্ক্ষিত এই আয়ুস্মান ভারত কার্ড।

আয়ুস্মান ভারত কার্ডের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সাধারণ মানুষকে মূলত স্থানীয় আশাকর্মীদের শরণাপন্ন হতে হবে। অনেক এলাকায় আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করে দিচ্ছেন। এর ফলে নাগরিকরা ঘরে বসেই অত্যন্ত সহজে কিছু জরুরি তথ্য প্রদান করে অনলাইনেই এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে পারছেন। তবে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনলাইন ই-কেওয়াইসি করার জন্য প্রথম শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয়ুস্মান ভারতের অফলাইন মোডে ফর্ম জমা দেওয়া থাকতে হবে। যদি কেউ অফলাইনে ফর্ম পূরণ না করে থাকেন, তবে তারা অনলাইনে ই-কেওয়াইসি করতে পারবেন না এবং পেমেন্ট বা অ্যাপ্লিকেশনে তাদের নামও প্রদর্শিত হবে না। পাশাপাশি, যাদের রেশন কার্ড বাতিল হয়ে গিয়েছে কিংবা যারা বড় রেশন কার্ডের গ্রাহক, তারা আপাতত এই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার আওতার বাইরে থাকছেন।

অনলাইনে এই ই-केওয়াইসি সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী মেনে চলতে হয়। সরকারের তরফ থেকে এই বিশেষ দায়িত্বটি প্রধানত আশাকর্মীদের উপর অর্পণ করা হয়েছে। ইচ্ছুক উপভোক্তাদের নিজ এলাকার আশাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কারণ তাদের কাছেই ‘প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা’ বা PMJAY-এর নির্ধারিত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি অ্যাক্টিভ থাকে। সেই অ্যাপে নির্দিষ্ট আধিকারিক বা কর্মীরা লগইন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রেশন কার্ড অথবা আধার নম্বরের সাহায্যে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।

পরবর্তী ধাপে, পিএমজেওয়াই (PMJAY) অ্যাপের মাধ্যমে রেশন কার্ড ও আধার কার্ডের সঠিক নম্বর ইনপুট করে ই-কেওয়াইসির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই কাজের জন্য আবেদনকারীর আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা সচল মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের মাধ্যমেই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে চলে। ওটিপি সফলভাবে যাচাই হওয়ার পর বায়োমেট্রিক বা ফটো তোলার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।