বাংলায় বজ্রপাতের তাণ্ডব, বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমানে ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকা আকাশ কালো করে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাতের তাণ্ডব। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পশ্চিমবঙ্গের দুই জেলা, বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমানে অন্তত ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২ জন। মরসুমের এই প্রথম দিকের বজ্রপাতেই এতগুলি প্রাণহানির ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বাঁকুড়ায় ৪ জনের মৃত্যু, ২ জন আহত:

বাঁকুড়া জেলার কোতুলপুর, ওন্দা, ইন্দাস ও পাত্রসায়ের থানা এলাকায় একাধিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

কোতুলপুর: কোতুলপুর থানার খিরি গ্রামে আমন ধান রোপণের সময় বাজ পড়ে গুরুতর আহত হন জিয়াউল হক মোল্লা ও আসপিয়া মোল্লা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে জিয়াউল হক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পাত্রসায়ের: পাত্রসায়ের থানার কাটাবন এলাকার উদয়পল্লী স্কুলের পাশে বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হন যুবক জীবন ঘোষ। বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

ওন্দা: ওন্দা থানার কামারকাটা এলাকায় বাজ পড়ে মৃত্যু হয় নারায়ণ সাওয়ার নামে এক ব্যক্তির।

ইন্দাস: একই সময়ে ইন্দাস থানার বাঙালচক এলাকায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন কৃষক শেখ ইসমাইল। এই ঘটনায় বুলটি বাগদী নামে এক মহিলা আহত হয়েছেন।

পূর্ব বর্ধমানে ২ জনের প্রাণহানি:

পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও বজ্রপাতের বলি হয়েছেন ২ জন।

মাধবডিহি: মাধবডিহি ব্লকের আলমপুরে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান সনাতন পাত্র (৬০)। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

আউশগ্রাম: আউশগ্রাম থানার ভেদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় হেব্ররম (২৮) মাঠে চাষের কাজ করার সময় বাজ পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

প্রশাসনের সতর্কতা ও আবহাওয়া পূর্বাভাস:

ধারাবাহিক বজ্রাঘাতে এই প্রাণহানির ঘটনায় জেলা প্রশাসনগুলি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। বাজ পড়ার সময় খোলা মাঠ, জলাধার বা উঁচু গাছপালা সংলগ্ন এলাকায় না যাওয়ার জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনেও রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলি ফের একবার বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার গুরুত্বকে সামনে আনল।