বজ্রপাতে বিদ্ধ দুই জেলা, বর্ধমানে ৫, বাঁকুড়ায় ৫ জনের মৃত্যু, নিহতদের অধিকাংশই কৃষক

বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) দুপুর থেকে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত হলো রাজ্যের দুই জেলা – পূর্ব বর্ধমান এবং বাঁকুড়া। বজ্রপাতের পৃথক পৃথক ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানে ৫ জন এবং বাঁকুড়ায় ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই জেলায় মোট ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ৭ জন আহত হয়েছেন। মৃতদের অধিকাংশই কৃষক, যারা মাঠে চাষের কাজ করার সময় বজ্রের শিকার হন।
পূর্ব বর্ধমানে ৫ প্রাণহানি, ৫ আহত
এদিন দুপুরে আকাশ কালো করে বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। এই প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ সহযোগে বৃষ্টির মাঝেই মাধবডিহি, রায়না, মঙ্গলকোট এবং আউশগ্রাম এলাকা থেকে মৃত্যুর খবর মিলেছে।
সনাতন পাত্র (৬০): মাধবডিহি থানার আলমপুরে জমিতে চাষ করার সময় বাজ পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি মাধবডিহি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
অভিজিৎ সাঁতরা (২৫): রায়না থানার তেণ্ডুলে তাঁর বাড়ি। জমিতে চাষ করার সময় বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
বুড়ো মাড্ডি (৬৪): মঙ্গলকোটের চানক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষ্ণপুরে তাঁর বাড়ি। তিনিও মাঠে চাষ করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান।
পরিমল দাস (৩৫): মাধবডিহি থানার শেরপুরে জমিতে চাষ করার সময় বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি খণ্ডঘোষ থানার মুইধারায়।
রবীন টুডু (২৫): আউশগ্রাম থানার দিয়াশা হাটমারা মাঠে চাষের কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আউশগ্রাম থানার বেলাড়ি তাঁতপুকুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এছাড়া, ভাতারের ভুমশোড় এলাকায় জমিতে চাষ করার সময় বাজ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং মাধবডিহি থানার শেরপুরে জমিতে চাষের কাজ করার সময় আরও একজন আহত হন।
বাঁকুড়ায়ও ৫ জনের মৃত্যু, ২ জন আহত
পূর্ব বর্ধমানের পাশাপাশি বাঁকুড়া জেলাতেও বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আকাশ কালো করে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ সহযোগে বৃষ্টির মাঝেই বাঁকুড়ার কোতুলপুর, ওন্দা, ইন্দাস ও পাত্রসায়র থানা এলাকায় পৃথক পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরও দু’জন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কতা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিলই। সেই পূর্বাভাস মোতাবেক বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বাঁকুড়ার আকাশ ছেয়ে যায় ঘন কালো মেঘে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে এবং তার পরেই একে একে মৃত্যুর খবর আসতে থাকে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলি বর্ষার মরসুমে মাঠে কাজ করার ক্ষেত্রে কৃষকদের চরম ঝুঁকিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। আবহাওয়া দফতর এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে না থাকা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সচেতনতা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।