“বাংলায় তো মুখ খুলতে দেয় না!” লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন কটাক্ষ মোদীর

লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনার মাঝেই তৈরি হলো এক বেনজির মুহূর্ত। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে তাঁকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধ নয়, সরাসরি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে ব্যঙ্গ করে প্রধানমন্ত্রী এদিন হাসিতে বিঁধলেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদকে।

বিতর্কের সূত্রপাত: বুধবার লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের পাশাপাশি আসন পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে আসলে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে। আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধীদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, তখনই তাঁর কথার মাঝখানে সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মোদীর ‘বেচারা’ কটাক্ষ: নির্বাচন চলাকালীন কেন এই বিলের তোড়জোড়, তা নিয়ে কল্যাণ সরব হতেই মোদী হাসিমুখে বিজেপি সাংসদদের উদ্দেশ্যে বলেন:

“আরে ভাই, ওঁকে বলতে দিন। ওখানে (বাংলায়) তো বেচারার মুখে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় ওঁকে কেউ কিছু বলতে দেন না।”

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই বিজেপি বেঞ্চে হাসির রোল ওঠে। মোদী আরও যোগ করেন, নির্বাচনের সময় যারা এই বিলের বিরোধিতা করেছেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন।

পাল্টা আক্রমণে কল্যাণ: প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে মেজাজ হারান শ্রীরামপুরের সাংসদ। আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি মোদীকে আক্রমণ শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্পিকার ওম বিড়লাকে হস্তক্ষেপ করে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করতে হয়। মোদী অবশ্য তাঁর বক্তব্যে অবিচল থেকে বলেন, এই বিলের বিরোধিতা করলে আসলে তাঁরই রাজনৈতিক লাভ হবে, কিন্তু দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

বিরোধীদের বড় প্রশ্ন: শুধু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, কংগ্রেস ও দক্ষিণ ভারতের দলগুলোও এই বিলের টাইমিং নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, ২০২৩ সালে বিলটি পাস হওয়ার পর কেন এতদিন কেন্দ্র চুপ করে ছিল? এখন নির্বাচনের মুখে কেন উত্তর ভারতের রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম করার লক্ষ্যে এই আসন পুনর্বিন্যাসের মোড়কে সংরক্ষণ আনা হচ্ছে?

সংসদের এই বাদানুবাদ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কল্যাণের প্রতি মোদীর ‘ব্যক্তিগত’ আক্রমণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy