২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) সংঘাত চরমে। সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে নির্বাচন কমিশনকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা তথা ওই কেন্দ্রের প্রার্থী কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে পুরোপুরি ‘বিজেপির শাখা সংগঠনে’ পরিণত হয়েছে।
কুণাল ঘোষ এদিন দাবি করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই যেভাবে আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের গণ-বদলি করা হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন বাংলায় এক অলিখিত জরুরি অবস্থা জারি করেছে। বিজেপি নেতাদের লিখে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী অফিসারদের সরানো হচ্ছে। যারা মানুষের জন্য কাজ করেন, তাঁদের সরিয়ে দিয়ে বিজেপি-বান্ধব অফিসারদের বসানোর চক্রান্ত চলছে।”
ভোটার তালিকা নিয়েও এদিন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, ‘সাপ্লিমেন্টারি ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট’ বা এসআইআর (SIR)-এর নামে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কুণালের কথায়, “বিজেপি জানে তারা ভোটে জিততে পারবে না, তাই কমিশনের কাঁধে বন্দুক রেখে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। আপনার পাশের বাড়ির লোক তালিকায় আছে, কিন্তু আপনি নেই— এমন প্ররোচনা তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।” কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তৃণমূল আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।