বাংলায় এবার ৮০ হাজার কোটির মেগা ধামাকা! নবান্নে অনিল আগরওয়ালের মাস্টারস্ট্রোক

রাজ্যে এক নতুন শিল্প যুগের সূচনা হতে চলেছে। আদানি ও অম্বানি গোষ্ঠীর পর এবার পশ্চিমবঙ্গে বিরাট অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠল বিশ্বখ্যাত ‘বেদান্ত গোষ্ঠী’ (Vedanta Group)। বুধবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বেদান্ত গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আসানসোলে একটি মেগা শিল্প ইউনিট ও বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ার সম্ভাবনার কথা জানান, যা থেকে অন্তত ১০,০০০ তরুণ-তরুণীর প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ও বিদ্যুৎ প্রকল্প
সূত্রের খবর, বিদ্যুৎ, খনি ও ধাতু ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই পশ্চিমবঙ্গে লগ্নির মূল ব্লু-প্রিন্ট সাজাচ্ছে বেদান্ত গোষ্ঠী।
কেন আসানসোল? কয়লার সহজলভ্য যোগান এবং বিদ্যমান উন্নত পরিকাঠামোর সুবিধা থাকায় আসানসোলকেই মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
জমির বর্তমান পরিস্থিতি: আসানসোলে ইতিমধ্যেই বেদান্ত গোষ্ঠীর হাতে প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই বিশাল প্রকল্পের স্বার্থে আরও জমির প্রয়োজন হতে পারে।
সম্ভাব্য বিনিয়োগ: অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা। সমীক্ষার ফল অনুকূল হলে এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা মিললে আগামী ৩ বছরের মধ্যেই প্রকল্পটি চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
“১০ হাজার প্রত্যক্ষ চাকরি, সব রকম সাহায্য করবে রাজ্য”: মুখ্যমন্ত্রী
শিল্পপতি অনিল আগরওয়ালের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের কর্মসংস্থানের চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
“অনিল আগরওয়ালজি নবান্নে এসে আসানসোলে একটি বড় শিল্প ইউনিট স্থাপনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তত ১০,০০০ তরুণ-তরুণীর প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগকে বাস্তবায়িত করতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হবে।”
“তৃণমূলের আমলে কেন আসিনি?” — আগরওয়ালের চাঞ্চল্যকর দাবি
দেশের সাতটি ভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এতদিন কেন পশ্চিমবঙ্গে পা রাখেনি বেদান্ত গোষ্ঠী? নবান্নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সে কথা পরিষ্কার করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, অনিল আগরওয়াল তাঁকে জানান যে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের পরিবেশ একেবারেই শিল্পবান্ধব ছিল না। সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি, কাটমানি সংস্কৃতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়ের কারণেই বেদান্ত বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে ওঠায় এবার তারা এই রাজ্যে বড় বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে।
৫ নভেম্বর রাজ্য সরকারের নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ
রাজ্যে শিল্পায়নের গতি আরও বাড়াতে আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘরে রাজ্য সরকারের নতুন শিল্পনীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এই নীতিতে রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন করলে কী কী বিশেষ সুবিধা, ছাড় ও ভরতুকি (Subsidy) পাওয়া যাবে, তার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের এই সিদ্ধান্তের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র শিল্পমহল।
উপসংহার:
আসানসোলে বেদান্তের সম্ভাব্য ৮০,০০০ কোটি টাকার মেগা বিনিয়োগ এবং নতুন শিল্পনীতির আগমন—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।