বাংলায় আর কাউকে বাইরে যেতে হবে না! শুভেন্দু অধিকারীর এই ঐতিহাসিক ঘোষণায় কী বদলাতে চলেছে রাজ্যের ভবিষ্যৎ?

বাংলার তরুণ সমাজকে কাজের সন্ধানে আর ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না। যারা ইতিমধ্যেই জীবিকার টানে রাজ্য ছেড়ে বাইরে চলে গিয়েছেন, তাঁদেরও দ্রুত নিজের ভিটেমাটিতে ফিরে আসার উদাত্ত আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউটাউনে একটি অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার নতুন অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বাংলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘এতদিন উপযুক্ত চাকরির অভাবে রাজ্যের যুবসমাজকে বাধ্য হয়ে বাইরে চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু এখন আর আমাদের রাজ্যের তরুণ-তরুণীদের চাকরি বা কাজের জন্য রাজ্য ছাড়তে হবে না। পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। এই নতুন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার মাধ্যমে একসঙ্গে প্রায় ৫,৮০০ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া রাজ্যের বাসিন্দারাও দ্রুত ফিরে আসুন, ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। আপনারা ফিরে এলে আমরা আপনাদের সকলকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানাব।’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট বার্তা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে চলেছি। তিনি প্রতি মুহূর্তে আমাদের সর্বদাই অণুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। বর্তমান সরকার প্রতিটি মুহূর্তে বাংলাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যের বহু শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন। তাঁদের একমাত্র দাবি ছিল সম্মানজনক চাকরি এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ। তাঁরা বাংলায় নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বিগত দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁদের জন্য কখনই অনুকূল ছিল না। তবে এখন রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে প্রত্যয়ী বাংলার তরুণ-তরুণীদের আমরা ঘরে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব। আমাদের সরকার নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সবসময় পাশে রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে পিএম মুদ্রা যোজনা, পিএম বিশ্বকর্মার মতো জনকল্যাণমূলক ও স্বনির্ভর স্কিমগুলি অত্যন্ত সফলভাবে চালু করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, বাংলায় কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন নিয়ে এর আগেও একাধিকবার রাজ্যবাসীকে জোরালো আশ্বাস দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিজেপি সরকার বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টিই তাদের প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। রাজ্যের বেহাল অর্থনৈতিক দশা সম্পূর্ণরূরে বদলে দিয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি নির্বাচনী প্রচারের সময়ও রাজ্যে কর্মসংস্থানের প্রসারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিল বিজেপি। সেই সময় দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, রাজ্যে সরকার গঠিত হলে তোলাবাজি, কাটমানি এবং দাদাগিরির কলুষিত সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করা হবে। নিউটাউনের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও একবার স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিলেন যে, তাঁদের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে সরকার এখন কতটা সফলভাবে কাজ করে চলেছে।