বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় কেন চুপ বামেরা? বিকাশরঞ্জনের ‘ব্যালান্স’ পোস্ট ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

বাংলাদেশে ফের মধ্যযুগীয় বর্বরতা। ধর্ম অবমাননার নিছক গুজবের জেরে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারল উন্মত্ত জনতা। এই হাড়হিম করা ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলেও ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলা— তথাকথিত প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ মহলের নীরবতা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

বিকাশরঞ্জনের ‘ব্যালান্স’ তত্ত্ব: এই নৃশংস ঘটনার পর সিপিএম সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন। কিন্তু তাতেও সরাসরি নিন্দার চেয়ে ‘ব্যালান্স’ করার চেষ্টা বেশি বলে মনে করছেন নেটিজেনরা। তিনি লিখেছেন, ওখানের মুসলিম মৌলবাদ তোল্লা দিচ্ছে এখানকার হিন্দু মৌলবাদকে। সমালোচকদের প্রশ্ন, একজন মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার বীভৎসতায় সরাসরি প্রতিবাদ না জানিয়ে কেন ভারতের রাজনীতির অনুষঙ্গ টেনে আনা হলো?

আবু সাঈদের জন্য গর্জন: বছর দেড়েক আগে বাংলাদেশে কোটা আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত আবু সাঈদের জন্য এদেশের বামপন্থী কমরেডরা যেভাবে সরব হয়েছিলেন, লম্বা লম্বা পোস্ট লিখেছিলেন, তা ছিল চোখে পড়ার মতো।

দীপু দাসের জন্য মৌনতা: অথচ দীপু দাসের ক্ষেত্রে সেই প্রতিবাদের তেজ উধাও। অভিযোগ উঠেছে, আক্রান্ত ব্যক্তি কোন গোষ্ঠীর বা কোন পক্ষের— তার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় প্রতিবাদের ঝাঁঝ।

ভোটের অঙ্ক ও তোষণ: বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে প্রতিবাদ করার সময় বামপন্থীরা সবসময় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর রাখেন। সেই কারণেই: ১. উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লির কোনও ঘটনায় তারা রাজপথে নামেন। ২. মধ্যপ্রাচ্যের প্যালেস্তাইন ইস্যুতে কলকাতার রাস্তা ব্লক করেন। ৩. কিন্তু বাংলাদেশ বা মুর্শিদাবাদের মতো এলাকায় সংখ্যালঘু নির্যাতনে তাদের মুখে কুলুপ পড়ে যায়।

ঐতিহাসিক উদাহরণ: নিবন্ধে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০১২ সালের সেই কথা। দিল্লিতে নির্ভয়া কাণ্ডের সময় যারা সরব হয়েছিলেন, তারাই কলকাতার পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণের সময় বলেছিলেন, “দিল্লি আর কলকাতার ধর্ষণের পরিপ্রেক্ষিত আলাদা।” এই একই ‘পরিপ্রেক্ষিত’ তত্ত্ব এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।