প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। দীপু চন্দ্র দাসের পর এবার একই কায়দায় নৃশংসভাবে খুন করা হল খোকন চন্দ্র দাস নামে আরও এক হিন্দু ব্যক্তিকে। শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার এই জঘন্য ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা ভারত। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি দাবি করে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস।
মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হার মানলেন খোকন জানা গিয়েছে, শরিয়তপুরের বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের ওপর দুই দিন আগে হামলা চালানো হয়। দুষ্কৃতীরা তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শনিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে বাংলাদেশে খুন হওয়া চতুর্থ হিন্দু ব্যক্তি হলেন এই খোকন দাস।
মোদী-শাহের নীরবতা নিয়ে তৃণমূলের তোপ এই ঘটনায় সরব হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া পোস্ট করেছে। তৃণমূলের দাবি, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং লাগাতার হিংসার শিকার হচ্ছেন হিন্দুরা। দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—
“মানবজাতির ওপর এমন নৃশংসতার পরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কেন চুপ? প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে বা কী দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে, তার কোনও ব্যাখ্যা মিলছে না।”
বিজেপিকে নিশানা তৃণমূল আরও অভিযোগ করেছে যে, একদিকে কেন্দ্র যখন এই ইস্যুতে ‘নিষ্ক্রিয়’, তখন পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় বিজেপি নেতারা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে সাম্প্রদায়িক সুরসুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রাজ্যে ধর্মের রাজনীতি করে উত্তেজনা ছড়ানোর এই প্রচেষ্টাকে তৃণমূল ধিক্কার জানিয়েছে।
বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু খুনের এই ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক স্তরে কতটা চাপ তৈরি করে এবং ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।