বাংলাদেশে ১৮ মাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অন্তর্বর্তী শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হলো তারেক রহমানের জমানা। মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই নবগঠিত ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি যেমন জায়গা পেয়েছেন তরুণ তুর্কিরা, তেমনই রাখা হয়েছে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বও।
মন্ত্রিসভার সবথেকে বড় চমক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নতুন সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া অভিজ্ঞ সালাহউদ্দিন আহমদকে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরও একটি চমকপ্রদ বিষয় হলো, সদ্য বিদায়ী ডঃ মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডঃ খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের এই ‘জুম্বো’ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাও দেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ির দীপেন দেওয়ান—এই ২ হিন্দু মুখকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক), এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতো প্রবীণ নেতারা। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরও এই নতুন প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর ক্ষমতার অলিন্দে ফিরে তারেক রহমান এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক দিয়েছেন।