বাংলাদেশে কি এবার ট্রাম্পের শাসন? কলকাতা থেকে হাসিনা-পুত্রের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

ওপার বাংলায় ঘনিয়ে আসছে ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এবার কলকাতা থেকেই বিস্ফোরক বার্তা দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। দীপ হালদার ও শাহিদুল হাসান খোকনের লেখা ‘ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ’ বইয়ের আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে জয় দাবি করেছেন, বাংলাদেশে এখন যা চলছে তা নির্বাচন নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ‘সিলেকশন’। এমনকি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর বাংলাদেশের শাসনভার পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যেতে পারে।

জয় সরাসরি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরিকল্পিতভাবে বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কেউ ভোট দিতে যাবেন না। যদি সংবিধান রক্ষা করতে চান এবং দেশকে সুরক্ষিত করতে চান, তবে এই নির্বাচন বয়কট করুন।” তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ যদি ভোট দিতে না যান, তবে এই সাজানো নির্বাচনের কোনো আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।

তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে জয় বলেন, এফবিআইয়ের খাতায় তারেকের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছে যে বিএনপি ১৫০-র বেশি আসন পাবে না এবং জামাত ১২০টি আসন পাবে। এর ফলে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না এবং সরকারে জামাতের প্রভাব বজায় থাকবে। জয়ের মতে, আমেরিকা যেভাবে ভেনেজুয়েলায় প্রভাব খাটিয়ে সরকার নিয়ন্ত্রণ করে, বাংলাদেশেও ঠিক সেই মডেল প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালে বাংলাদেশের ওপর আমেরিকার কর্তৃত্ব আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

জাতীয় পার্টির মতো দলগুলোকেও নির্যাতন করে কোণঠাসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন হাসিনা-পুত্র। তিনি সতর্ক করে বলেন, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটসংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে ধরা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে একটি ‘মৌলবাদী ও বিদেশি শক্তির মেলবন্ধন’ হিসেবেই দেখছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy