হাঁটুর ব্যথায় চলাফেরা বন্ধ? বয়স বাড়ার আগেই সাবধান হন, হতে পারে মারাত্মক এই রোগের লক্ষণ!

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি বয়স বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত জয়েন্টে ব্যথা কিংবা চলাফেরায় মারাত্মক অসুবিধা অনুভূত হয়, তবে মুহূর্তেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এটি আথ্রাইটিস বা গেঁটেবাতের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। জয়েন্ট বা সংযোগস্থলকে প্রভাবিত করে এমন একটি জটিল রোগ হলো আথ্রাইটিস। অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, বয়সজনিত কারণ, কিংবা অতীতে জয়েন্টে কোনো পুরোনো আঘাত লাগার ফলে এই সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া পরিবারে যদি কারও এই রোগের ইতিহাস থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মেও আথ্রাইটিসের ঝুঁকি আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও আথ্রাইটিস পুরোপুরি নিরাময় করা কঠিন, তবে সঠিক জীবনযাত্রা, নিয়মিত ওজন নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং জয়েন্টে আঘাত এড়ানোর মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়েন্টের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শরীরকে সবসময় সক্রিয় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম আথ্রাইটিসের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি এর উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ সাহায্য করে। বিশেষ করে সাইকেল চালানো, দ্রুত গতিতে হাঁটা (ব্রিস ওয়াকিং), সাঁতার কাটা এবং হালকা ব্যায়ামের মতো কার্যকলাপে জয়েন্টগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার শারীরিক পরিশ্রম এবং অন্তত দু’দিন পেশী শক্তি বৃদ্ধি সহায়ক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ওজনের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ও ওজন বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব। যাঁদের ওজন ইতিমধ্যে বেশি, তাঁরা যদি শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশও কমাতে পারেন, তবে জয়েন্টের ব্যথা এবং চলাফেরার প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই কমে যায়।
জয়েন্টের যেকোনো ছোটখাটো আঘাতকে কখনো হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। হাঁটু বা শরীরের অন্য কোনো সংযোগস্থলে লাগা আঘাত ভবিষ্যতে ‘অস্টিওআর্থ্রাইটিস’-এর মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। খেলাধুলো করার সময়, ভারী কাজ করার সময় কিংবা হঠাৎ পড়ে গিয়ে বারবার একই জয়েন্টে চাপ পড়ার কারণে এই বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই ব্যায়াম করার সময় সঠিক নিয়ম ও কৌশল মেনে চলা, আঘাত পেলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। শরীরের জয়েন্টে দীর্ঘমেয়াদি বা বারবার ব্যথা অনুভূত হলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সচেতনতাই পারে আপনাকে এই কষ্টদায়ক রোগ থেকে দূরে রাখতে।