২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এবার নামলেন বিজেপির পোস্টার বয় তথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বৃহস্পতিবার বারাবনির জনসভা থেকে তিনি সরাসরি বাংলার মানুষকে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার (কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের শাসন) গড়ার আহ্বান জানালেন। যোগীর দাবি, উত্তরপ্রদেশ যেভাবে অপরাধমুক্ত ও উন্নয়নের পথে এগিয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার রূপরেখাও ঠিক সেভাবেই বদলে যাবে।
যোগীর বক্তৃতার মূল পয়েন্টগুলো:
ইউপি মডেল বনাম বাংলা: যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, একটা সময় উত্তরপ্রদেশে গুন্ডারাজ এবং দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ছিল। কিন্তু ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর সেখানে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। তাঁর হুঙ্কার, “বাংলাকেও যদি উত্তরপ্রদেশের মতো সুন্দর ও নিরাপদ বানাতে হয়, তবে এখানেও ডাবল ইঞ্জিন সরকার চাই।”
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে নিশানা: রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। ইউপির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে অপরাধীরা আজ হয় জেলে, নয়তো রাজ্য ছাড়া। বাংলায় বিজেপি এলে অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিকাশ ও বুলডোজার রাজনীতি: যোগীর বক্তব্যে পরোক্ষভাবে উঠে আসে ‘বুলডোজার’ প্রসঙ্গ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে বাংলার সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা পাবেন এবং তোলাবাজি চিরতরে বন্ধ হবে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক মহলের মতে, শিল্পাঞ্চল বারাবনিতে যোগীকে দিয়ে সভা করানো বিজেপির সুপরিকল্পিত কৌশল। হিন্দিভাষী ভোটার এবং হিন্দুত্ববাদী সেন্টিমেন্টকে চাঙ্গা করতেই গেরুয়া শিবির যোগী কার্ড খেলেছে। তবে যোগীর এই ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ বাংলার মানুষ কতটা গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশেষ বক্তব্য: যোগী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দিল্লির মোদী সরকারের হাত শক্ত করতে বাংলার সরকারকে বদলানো একান্ত প্রয়োজন। তাঁর এই “আমূল বদলে যাবে বাংলা” স্লোগান এখন শিল্পাঞ্চলের অলিতে-গলিতে চর্চার বিষয়।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য যোগীর এই সফরকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের পাল্টা দাবি, যোগী নিজের রাজ্য সামলান, বাংলা বাংলার মতোই থাকবে। দুই মেরুর এই লড়াইয়ে এখন সরগরম বারাবনি।





