উত্তরপ্রদেশ বা উত্তরাখণ্ডের পর এবার কি বাংলাতেও পা রাখবে ‘বুলডোজার রাজনীতি’? বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে খড়গপুর সদরে প্রচারে এসে এই জল্পনা উসকে দিলেন বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র সাফ জানিয়ে দিলেন, অন্যায় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপি সরকার আপোষ করবে না।
খড়গপুরে দিলীপের মেজাজ: সোমবার খড়গপুর সদরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে আসেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার মডেল’ নিয়ে মন্তব্য করেন। দিলীপের কথায়:
“মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। যারা মানুষের জায়গা দখল করে রেখেছে বা যারা তোলাবাজি করে প্রাসাদ বানিয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদের রেয়াত করা হবে না। বেআইনি কাজ করলে বুলডোজার তো চলবেই!”
ঠিক কী ইঙ্গিত দিলেন তিনি? বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তাঁর বক্তব্যের মূল নির্যাস হলো—
অপরাধীদের হুঁশিয়ারি: সমাজবিরোধী এবং সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য উত্তরপ্রদেশের ধাঁচেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্নীতির বিনাশ: সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এবং দুর্নীতির টাকায় তৈরি সম্পত্তির ওপর ‘বুলডোজার’ চালানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখলেন তিনি।
যোগী-মডেলের প্রশংসা: বাংলার শাসনব্যবস্থায় যোগী আদিত্যনাথের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের এই নেতা।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপি বাংলায় উন্নয়নের কথা বলতে পারে না বলেই ধ্বংসাত্মক ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ আমদানি করতে চাইছে। বাংলার মাটিতে বিভাজন এবং ভয়ের রাজনীতি মানুষ মেনে নেবে না।
বুলডোজার কি তুরুপের তাস? সাম্প্রতিককালে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বিজেপিকে বড় সাফল্য এনে দিয়েছে এই ‘বুলডোজার’ ইমেজ। বাংলায় সেই একই তাস খেলে ভোটারদের একাংশকে তুষ্ট করাই কি দিলীপ ঘোষের লক্ষ্য? খড়গপুরের প্রচার সভা থেকে ওঠা এই হুঙ্কার এখন গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে। লড়াই যে কেবল ইভিএম-এ নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক স্তরেও পৌঁছাচ্ছে, দিলীপের কথাতেই তা স্পষ্ট।





