বসন্তের মিঠে হাওয়ায় নবাবের শহরে বসেছিল চাঁদের হাট। মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ উৎসব’-এ এবার সামিল হলেন ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়াসহ মোট সাতটি দেশের পর্যটকরা। বাংলার হারিয়ে যাওয়া নবাবি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্বাদ বিদেশি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
ইতিহাসের টানে বিশ্বভ্রমণ: তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানো হয় মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো। মুর্শিদাবাদ থেকেই একসময় ব্রিটিশরা ভারতের শাসনভার দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল। সেই ইতিহাসের সাক্ষী কাঠগোলা বাগান থেকে শুরু করে হাজার দুয়ারি প্যালেস—প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা কাহিনী শুনে মুগ্ধ বিদেশি অতিথিরা। সাংস্কৃতিক মঞ্চে বাংলার লোকগীতি ও ঐতিহ্যবাহী ‘রায়বেশে’ নৃত্যের তালে মেতে ওঠেন তাঁরা। জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজির প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
সংকট কাটিয়ে নতুন আশা: সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশ ইস্যু, জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ এবং বেলডাঙার হিংসার ঘটনায় মুর্শিদাবাদের পর্যটন শিল্পে বড় ধাক্কা লেগেছিল। গত ১ জানুয়ারি যেখানে হাজার দুয়ারিতে মাত্র ৭ হাজার পর্যটক এসেছিলেন (অন্যান্য বছরে যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়), সেখানে এই উৎসব নতুন প্রাণের সঞ্চার করল। সোসাইটির সভাপতি সঞ্জয় দুগার বলেন, “৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ৫০টির বেশি হেরিটেজ স্থান বিশ্বে আর কোথাও নেই। এই সম্পদকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”
পর্যটকদের বয়ানে মুগ্ধতা: রাশিয়া থেকে আসা পর্যটক আলিয়া কাজান আপ্লুত হয়ে জানান, “সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ভারতের নেতিবাচক দিক দেখান, কিন্তু মুর্শিদাবাদে এসে আমি এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতির স্বাদ পেলাম। আমি সবাইকে বলব এখানে আসতে।” কলকাতা থেকে আসা রুনু আগরওয়ালও এখানকার সুস্বাদু খাবার ও নৌকা ভ্রমণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।