মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের বারুদে কালো হয়ে আছে, তখনই এক বিস্ফোরক ‘শান্তি প্রস্তাব’ নিয়ে হাজির হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে ট্রাম্প প্রশাসন একটি ১৫ দফার খসড়া পরিকল্পনা পেশ করেছে। বুধবার (২৫ মার্চ, ২০২৬) পাকিস্তান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই প্রস্তাব তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা—এই শর্তগুলি মানলে তবেই মিলবে এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি।
ট্রাম্পের ১৫ দফার মূল শর্তগুলো কী কী? ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে:
-
প্রক্সি গ্রুপে নিষেধাজ্ঞা: ইরানকে অবিলম্বে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুথিদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
-
পরমাণু পরিকাঠামো ধ্বংস: ইরানের সমস্ত পারমাণবিক কেন্দ্র (যেমন নাতাঞ্জ, ফোর্ডো) পুরোপুরি বন্ধ এবং ধ্বংস করতে হবে। মজুদ রাখা সমস্ত ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে।
-
মিসাইল প্রোগ্রামে লাগাম: ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির ক্ষমতা এবং পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
-
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালীকে ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
তেহরানের পাল্টা ৪ কঠিন শর্ত: ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে খুব একটা সহজভাবে নেয়নি ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, তেহরান পাল্টা কিছু শর্ত সামনে রেখেছে: ১. পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও সেনা সরিয়ে নিতে হবে। ২. ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। ৩. লেবানন ও গাজায় ইজরায়েলি অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ৪. হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ইরানকে ‘ট্রানজিট ফি’ আদায়ের অনুমতি দিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি: ট্রাম্প যখন এই ১৫ দফা প্রস্তাব দিচ্ছেন, ঠিক তখনই কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা এবং তেহরানের মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্রে ইজরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। একদিকে কূটনীতির টেবিলে শর্তের লড়াই, অন্যদিকে রণাঙ্গনে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়। ট্রাম্পের এই ‘১৫ পয়েন্ট প্ল্যান’ কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামাবে, নাকি এটি কেবল নতুন এক উত্তেজনার শুরু, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।