সমুদ্রের নীল জলরাশি আর ফেনীর কথা তো সবাই জানেন। কিন্তু আপনি কি জানেন গোয়ার মাটির এমন এক পানীয়র কথা, যা বছরের মাত্র ৮ সপ্তাহ বা মোটে ৬০ দিনের জন্য দেখা দেয়? পর্যটকদের ভিড় থাকুক বা না থাকুক, গরমের ছুটিতে গোয়ার আসল আকর্ষণ হলো ‘উরাক’ (Urrak)। স্থানীয়রা একে ভালোবেসে ডাকেন ‘জঙ্গল জুস’ বা ‘মায়া ড্রিঙ্ক’।
কী এই উরাক? উরাক হলো কাজু ফলের (Cashew Apple) প্রথম পাতন বা ফার্স্ট ডিস্টিলেশন। কাজু আপেল থেকে যখন মদ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়, প্রথম ধাপে যা পাওয়া যায় তা-ই হলো উরাক। এটি ফেনীর (Feni) চেয়ে হালকা এবং এতে অ্যালকোহলের পরিমাণ তুলনামূলক কম (সাধারণত ১২% থেকে ১৫%)। এর গন্ধ এতটাই মিষ্টি এবং ফলের মতো যে একবার খেলে এর মোহ কাটিয়ে ওঠা কঠিন।
কেন এটি বছরে মাত্র ৬০ দিন মেলে? উরাকের বিশেষত্ব হলো এর সতেজতা। এটি বাণিজ্যিকভাবে বোতলবন্দি করে সারা বছর বিক্রি করা হয় না।
মরসুম: ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত যখন কাজু ফল পাকে, তখনই তৈরি হয় এই পানীয়।
বর্ষার প্রভাব: মে মাস শেষ হয়ে বর্ষার প্রথম বৃষ্টি নামলেই উরাকের মরসুম শেষ হয়ে যায়। আর্দ্রতা বাড়লে এই পানীয়র স্বাদ বদলে যায় বলে মনে করেন স্থানীয় কারিগররা। তাই উরাক পেতে হলে আপনাকে গরমের ছুটিতেই পাড়ি দিতে হবে সমুদ্র তীরে।
কীভাবে পান করবেন? গোয়ান স্টাইলে উরাক খাওয়ার মজাই আলাদা। এক গ্লাস উরাকের সঙ্গে লেবুর টুকরো, এক চিমটি নুন, চেরা কাঁচা লঙ্কা এবং লিমকা বা স্প্রাইট মিশিয়ে যখন আপনি চুমুক দেবেন, তখন গরমের ক্লান্তি মুহূর্তেই উবে যাবে।
কেন এটি অনন্য? উরাক কেবল একটি পানীয় নয়, এটি গোয়ার ঐতিহ্যের অংশ। এতে কোনো প্রিজারভেটিভ বা কৃত্রিম রং থাকে না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে গ্রামে গ্রামে ছোট ছোট ভাঁটিতে (Bhattis) এটি তৈরি করা হয়। অনেক পর্যটকই এই পানীয়র আস্বাদ নিতে বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে গোয়ায় ভিড় জমান।
তাই পরের বার গ্রীষ্মে গোয়া ভ্রমণে গেলে বিয়ার বা ককটেল ছেড়ে অবশ্যই খোঁজ করবেন এই ‘উরাক’-এর। মনে রাখবেন, মে মাস পার হলেই কিন্তু এই ‘জাদুকরী’ পানীয় আবার দেখা দেবে ঠিক পরের বছর!





