বঙ্গ রাজনীতিতে বড় ধামাকা! ২০২৬-এর আগে ৯৫% আসনে সমঝোতা সারা, কার হাত ধরছেন সেলিম?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে এখনও কিছুটা দেরি থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে রণকৌশল সাজাতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে রাজি নয় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ফের ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে বামেদের তুরুপের তাস এখন ‘সমঝোতা’। সিপিআইএম (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট করে দিলেন, রাজ্যের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আসনে ইতিমধ্যেই আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গত কয়েক বছরের চেনা সঙ্গী কংগ্রেসকে কি এবারও পাশে দেখা যাবে? নাকি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বাংলার রাজনীতির অলিন্দে?

সম্প্রতি এক দলীয় বৈঠকে মহম্মদ সেলিম জোট প্রসঙ্গে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, রাজ্যের বিজেপি এবং শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস—উভয়কেই সমদূরত্বে রেখে বামপন্থীরা তাদের আন্দোলনের সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলছে। সূত্রের খবর, বামফ্রন্টের অন্দরে থাকা ছোট দলগুলোর (ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, সিপিআই) সঙ্গে আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। তবে এবার সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আইএসএফ (ISF) এবং নওশাদ সিদ্দিকীর ভূমিকা। মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট করেছেন যে, যারা তৃণমূল এবং বিজেপির স্বৈরাচারী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়তে চায়, তাদের সকলের জন্যই বামেদের দরজা খোলা।

এদিকে, জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের শরিক হলেও বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিআইএম-এর জোট হওয়া নিয়ে দোলাচল অব্যাহত। সেলিম সাহেবের কথায়, “আমরা মানুষের জোট চাইছি, শুধু নেতাদের হাত মেলানো নয়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিচুতলার কর্মীদের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে এবার বামেরা এমন কিছু আসনে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি করতে চাইছে যেখানে গত নির্বাচনে তারা দ্বিতীয় স্থানে ছিল। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে আসন রফায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মহম্মদ সেলিমের এই রণকৌশল কি ২০২৬-এ বামেদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে? নাকি ভোটের আগে ফের শরিকি কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে? সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে সেলিমের এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা বর্তমান শাসক শিবিরের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy